অপহরণ-ছিনতাই চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৬

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৩:৩৯ পিএম, ০৪ জুন ২০২২
র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার অপহরণ ও ছিনতাই চক্রের ছয় সদস্য

অপহরণ ও ছিনতাই চক্রের মূল হোতাসহ ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছেন র‌্যাব-১১ এর সদস্যরা। এ সময় ইমাম হোসেন নামে অপহৃত এক যুবককে উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র।

শনিবার (৪ জুন) দুপুরে র‌্যাব-১১ এর কুমিল্লার কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন জাগো নিউজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতাররা হলেন- কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার উল্টর নছরুদ্দি গ্রামের মৃত শাহ আলমের ছেলে মো. জিসান আহমেদ (৩২), খুলনার চালনা উপজেলার কামার খোলা দাকোপ গ্রামের মো. মনিরুল ইসলাম গাজীর ছেলে মো. ইসমাইল গাজী (২৫), একই জেলার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর গ্রামের মো. ছবুর গাজীর ছেলে মো. এখলাছুর রহমান ফাহিম(১৯), পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার পশ্চিম পশারী বুনিয়া গ্রামের মো. জাকির হোসেনের ছেলে মো. জায়েদ আল শাহান (২১), সুনামগঞ্জের তাহেরপুর উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের মো. মারাফত আলীর ছেলে মো. আবির হোসেন (২১) ও ঢাকার ডেমরা থানার ডেমরা গ্রামের হাজী আবদুস সালামের ছেলে মো. হাবিবুর রহমান (৩৪)।

আপহৃত ইমাম হোসেন (২৭) চট্টগ্রামের ভূজপুর উপজেলার নতুন পাড়া গ্রামের মো. জাফরের ছেলে।

আপহৃত ইমামের বরাত দিয়ে র‌্যাব-১১ এর কুমিল্লার কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন বলেন, ২ জুন রাত ৯টার দিকে চাকরিতে যোগদানের জন্য কুমিল্লা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি কালো হাইচে ওঠেন ইমাম। মহাসড়কের কোর্টবাড়ী বিশ্বরোড পার হওয়ার পর কয়েকজন ছুরিকাঘাতের ভয় দেখিয়ে ইমামের কাছ থেকে মোবাইল ফোন এবং টাকা ছিনিয়ে নেন। পরবর্তীতে ইমামের পরিবারের কাছে ফোন করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।

র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক আরও বলেন, ইমামের স্ত্রী রিনা আক্তার বিষয়টি র‌্যাবকে জানালে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে শুক্রবার (৩ জুন) রাতে ঢাকার ডেমরা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অপহরণ চক্রের মূল হোতা জিসানসহ ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি সুইচ গিয়ার ছুরি, দুটি ধারালো ছুরি, কচটেপ এবং বিপুল পরিমাণ দাতব্য যন্ত্রপাতিসহ একটি কাঠের বক্স জব্দ করা হয়। এ সময় অপহৃত ইমামকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়।

অপহরণ-ছিনতাই চক্রের মূল হোতাসহ গ্রেফতার ৬

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতারদের স্বীকারোক্তি ও মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে তাদের পরবর্তী টার্গেট পাওয়া গেছে। যেখানে ৬ জুন রাজধানীর খিলগাঁও থানার বাসাবো এলাকায় একটি ব্যাংকে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ছিল। তাদের পরিচালিত একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গ্রুপ চেক করে দেখা যায়- তারা ব্যাংকের বাসাবো শাখা এরই মধ্যে পর্যবেক্ষণ করেছে। তাদের পরিকল্পনা ছিল, চক্রের দুই সদস্য অ্যাকাউন্ট খোলার নাম করে ব্যাংকে প্রবেশ করবে এবং অধিক টাকা উত্তোলনকারী গ্রাহকদের পর্যবেক্ষণ করবে। বাকি সদস্যরা কে কোথায় অবস্থান নিবে, টাকা উত্তোলন করে ব্যাংক থেকে বের হয়ে গেলে কোন রাস্তার কোথায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে টাকা ছিনতাই করবে, এমনকি ছিনতাইয়ের পরে কোন লোকেশনে গিয়ে তারা গা ডাকা দিবে এ সমস্ত তথ্য তারা ম্যাপে স্ক্রিনশট দিয়ে রেখেছে। তারা বড় বড় মিশন পরিকল্পনার বিষয়টিও স্বীকার করেছে।

এ ঘটনায় গ্রেফতার ছয়জন ও পলাতক তিনজনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতারদের পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জাহিদ পাটোয়ারী/এসজে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।