ইউপি নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ভোট করে বিপাকে ২ গ্রামের বাসিন্দা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ১১:৫৬ এএম, ০৫ জুন ২০২২
সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগীরা

নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরজব্বর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ভোট করে বিপাকে পড়েছেন জাহাজমারা ও চরহাসান গ্রামের বাসিন্দারা। নৌকার পরাজয়ের পর প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসী হামলার শিকার হচ্ছেন তারা।

শনিবার (৪ জুন) দুপুরে জাহাজমারা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এমন দাবি করেন চেউয়াখালী বাজারের ব্যবসায়ীরা।

জাহাজমারা রেডক্রিসেন্ট উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ব্যবসায়ী হাজী মো. জাকের হোসেন (৬০) অভিযোগ করে বলেন, ‘১০ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় ইউপি নির্বাচনে নৌকার পরাজয়ের পর স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী কিশোর গ্যাং লিডার মো. রাসেদ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। স্কুল কমিটি নিয়ন্ত্রণে নিতে রাসেদ ২৮ মে রাতে আমাকে প্রকাশ্য বাজারে পিটিয়ে জখম করে। এ সংক্রান্ত একটি অডিও ভাইরাল হয়। তবুও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ও চরজব্বর থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। বরং অভিযোগ দেওয়ায় আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’

জাহাজমারা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা নৌকার পক্ষে থাকাই কাল হয়েছে। নির্বাচনে নৌকা হেরে যাওয়ায় পর থেকে গত চারমাসে রাসেদ বাহিনী কমপক্ষে ১৫ জনের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।’

চরহাসান গ্রামের মো. মিজান মাঝি বলেন, ‘আমরা ১০ ভাই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। নির্বাচনের পর রাসেদ বাহিনীকে চাঁদা না দেওয়ায় ইমান আলী বাজারের পাশে নৌকা থেকে আমাদের জালসহ অন্তত ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এখন আমাদের বাড়িতে থাকাও দায় হয়ে পড়েছে।’

স্থানীয় যুবলীগ নেতা বাহার উদ্দিন বলেন, ‘শেখ হাসিনার দেওয়া নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করাই আমাদের জন্য কাল হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক জিতেই তার নির্দেশে রাসেদ ও তার মামা আবদুল হাইয়ের নেতৃত্বে তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী সমগ্র এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।’

মো. সোহেল রানা নামের এক যুবলীগ কর্মী বলেন, ‘এসব বিষয়ে বিচার করার কেউ নাই। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৌকার পক্ষে থাকায় আমরা আজ নিপীড়নের শিকার হচ্ছি। চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রশাসন কোন প্রতিকার নিচ্ছে না। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

no-(2).jpg

পরে ভুক্তভোগীরা চেউয়াখালী বাজারে কিশোরগ্যাং রাসেদের গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। মো. রাসেদ জাহাজমারা গ্রামের কাঞ্চন মাঝির পুরাতন বাড়ির মো. মফিজুল হকের ছেলে।

চরজব্বরের পরাজিত নৌকার প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রশাসনকে তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এসব বিষয়ে জানতে মো. রাসেদের মোবাইল নম্বরে বারবার ফোন করলে তিনি রিসিভ করেও কথা বলেননি। পরে ক্ষুদেবার্তা পাঠালে তিনি সাড়া না দিয়ে উল্টো মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন।

চরজব্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, ‘নির্বাচনে রাসেদ আমার কর্মী ছিল। তার বিরুদ্ধে কেউ আমাকে কোনো অভিযোগ দেয়নি।’

রাসেদের মোবাইল ফোনে হুমকি ও মারধরের ভাইরাল অডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।’

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক তরিক খন্দকার জাগো নিউজকে বলেন, ‘কিশোর গ্যাং সম্পর্কে কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

১০ ফেব্রুয়ারি সুবর্ণচরের চরজব্বর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা তরিকুল ইসলাম। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন অ্যাডভোকেট ওমর ফারক। স্থানীয় নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী নৌকার বিরোধিতা করে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে নির্বাচনে নৌকা হারিয়ে বিদ্রোহী ওমর ফারুক জয়লাভ করেন।

ইকবাল হোসেন মজনু/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।