‘খালেদা জিয়ার যত সৈনিক রয়েছেন তাদের মধ্যে সাক্কুও একজন’

জাহিদ পাটোয়ারী
জাহিদ পাটোয়ারী জাহিদ পাটোয়ারী , কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৭:১৫ পিএম, ০৭ জুন ২০২২

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনের বাকি আর মাত্র আটদিন। ভোটের উত্তাপে সরগরম নগরীর ২৭ ওয়ার্ড। বিজয়ের আশায় মাঠে মরিয়া প্রার্থী ও তাদের স্বজনরা। কুসিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সদ্য বিদায়ী মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। স্বামীর পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন স্ত্রী আফরোজা জেসমিন টিকলি। তিনি মুখোমুখি হয়েছিলেন জাগো নিউজের। তার সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কুমিল্লা প্রতিনিধি জাহিদ পাটোয়ারী।

জাগো নিউজ: মনিরুল হক সাক্কু পরপর দুবারের মেয়র ছিলেন। আপনি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তার কোন কাজটা অসমাপ্ত রয়েছে বলে মনে করেন?

আফরোজা জেসমিন টিকলি: সাক্কু মেয়র হওয়ার পর এমন কিছুর কমতি নেই, যা নিয়ে আলোচনা করা যায়। বরং আমি বলবো দেশের অন্য সিটি করপোরেশগুলো আপনারা দেখেন, সেগুলো থেকে সাক্কু অনেক বেশি সময় দিয়েছেন। সিটি করপোরেশনের একটি লিমিটেশন আছে। করোনা-ওমিক্রনের কারণে বাইরের প্রজেক্টগুলো আসেনি। হয়তো সে কারণে কিছুটা পিছিয়ে আছে। আমি মনে করি বাংলাদেশের অনেক জেলা থেকে কুমিল্লা শহর অনেক উন্নত, অনেক ভালো। সাক্কু তার কায়িক পরিশ্রম এবং যখন যেখান থেকে যে সহযোগিতা পেয়েছেন তা দিয়ে কুমিল্লা সিটিকে সাজিয়েছেন।

jagonews24

জাগো নিউজ: জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী?

আফরোজা জেসমিন টিকলি: শতভাগ আশাবাদী। সাক্কুর এবার হ্যাটট্রিক জয় হবে ইনশাআল্লাহ। কারণ কুমিল্লার মানুষ তাকে মনেপ্রাণে ভালোবাসেন।

জাগো নিউজ: মেয়র থাকাকালীন সাক্কুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও ঘুস নেওয়ার অভিযোগ তুলছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

আফরোজা জেসমিন টিকলি: চোর, অনিয়ম ও ঘুস নেওয়া—এগুলো রাজনৈতিক ভাষা। এগুলো নিয়ে আমার বলার কিছু নেই। এ কারণেই আমি যদি চিৎকার দিয়েও বলি আমার স্বামী সৎ, ভালো মানুষ তা জনগণ বিশ্বাস করবে না। চুরির বিষয়টা একমাত্র ওপরওয়ালা জানেন। আর জনগণ যে আজ এত সাড়া দিচ্ছে আপনার কি মনে হয় উনি চোর? তাহলে কি তারা সাড়া দিতেন? এককথায় বলতে পারি সাক্কুর মতো ভালো মানুষ কুমিল্লায় নেই।

জাগো নিউজ: প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের এসব অভিযোগে ভোটে প্রভাব পড়বে কি না?

আফরোজা জেসমিন টিকলি: কোনো প্রভাব পড়বে না। যারা প্রভাব ফেলতে চায় তারা কোনো অনিয়ম করে প্রভাব ফেলতে পারবে। এছাড়া সুষ্ঠু ভোট হলে কোনোভাবেই সাক্কুর ভোটে প্রভাব ফেলতে পারবে না। আমরা যেখানেই যাচ্ছি প্রচুর মানুষের সমাগম হচ্ছে। বাকিটা আপনারাই বিবেচনা করেন।

জাগো নিউজ: স্বামী হিসেবে মেয়র সাক্কুর কোন বিষয়টি আপনার খারাপ লাগে?

আফরোজা জেসমিন টিকলি: সাক্কু কুমিল্লার উন্নয়ন করতে করতে গরম ভাত, গরম তরকারির টেস্টও ভুলে গেছেন। সকালে বের হন, রাতে ফেরেন। সকালে বের হতে গিয়ে খাওয়া তো দূরের কথা; নাস্তাটুকুও মুখে দিতে পারেন না। যখন বাসায় খেতে বসেন তখনো ফোনে ‘উন্নয়ন উন্নয়ন’ বলতে বলতে ভাত শুকিয়ে যায়। শরীর-স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখেন না। এ বিষয়গুলো আমার খারাপ লাগে।

jagonews24

জাগো নিউজ: আপনার স্বামী তো নির্বাচনের কারণে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত। আপনি বলছেন ১৫ তারিখ জয়ী হলে পরের সপ্তাহে আমরা আবারও বিএনপি। এই বহিষ্কারাদেশ দলীয় কৌশল না তো?

আফরোজা জেসমিন টিকলি: এত গভীর প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারবো না। শুধু এটুকু বলবো খালেদা জিয়ার যতজন সৈনিক আছে, তাদের মধ্যে সাক্কু একজন। উনি তৃণমূলে কাজ করেন। উনি কখনো লিয়াজোঁ মেইনটেন করেন না। এটাই মনিরুল হক সাক্কুর দোষ। সে কারণে আজ বহিষ্কার-আবিষ্কার যাই বলেন হচ্ছে। তিনি কুমিল্লাবাসীর কাছে দায়বদ্ধতার কারণেই নির্বাচন করছেন। গতবারও নির্বাচিত হওয়ার পর খালেদা জিয়া বুকে টেনে নিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ আবারও বিজয় হলে তিনি বুকে টেনে নেবেন।

জাগো নিউজ: ভোটারদের যা বলতে চান...

আফরোজা জেসমিন টিকলি: ভোটারদের বলবো নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যাবেন। স্মার্টকার্ড নিয়ে যাবেন। স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দেবেন। যাকে খুশি ভোট দেবেন। কারও রক্তচক্ষুকে ভয় করবেন না।

এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।