নেত্রকোনায় বিশুদ্ধ পানি-খাবার সংকট

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৪:৫৬ পিএম, ১৯ জুন ২০২২

নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলায় সাত শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভেসে গেছে চার হাজারের বেশি পুকুরের মাছ। এ দুই উপজেলায় বন্যার পানি স্থিতিশীল রয়েছে।

রোববার (১৯ জুন) বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উব্দাখালী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপৎসীমার ১১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।

কংশ ও ধনু নদীর পানি বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। খালিয়াজুরীতে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। প্রতিটি উপজেলায় সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাবারের।

দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সদর, চন্ডিগড়, গাঁওগান্দিয়া ও বিরিশিরি ইউনিয়নের ৪০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির স্রোতে অন্তত দেড় শতাধিক বাড়িঘর ভেঙে গেছে। কাঁচা-পাকা সড়ক ভেঙে গেছে। উপজেলার ৯৫ ভাগ তলিয়ে গেছে।

নেত্রকোনায় বিশুদ্ধ পানি-খাবার সংকট, উদ্ধারে সেনাবাহিনী

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল হাশেম জানিয়েছেন, লেঙ্গুরা ইউনিয়নে দুই শতাধিক বাড়িঘরসহ অন্তত পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেছে।

খালিয়াজুরী ইউএনও এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে যে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছি। খালিয়াজুরী সদর ও আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি এবং সহায়-সম্পদ নিয়ে সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা তাদের শুকনা খাবার সরবরাহ করছি।’

খালিয়াজুরী উপজেলায় ৭০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না নিয়ে বিপাকে আছেন দুর্গতরা। দুর্গত পরিবারগুলো সহায়-সম্পদ ও গবাদিপশু নিয়ে ৫২টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।

নেত্রকোনায় বিশুদ্ধ পানি-খাবার সংকট, উদ্ধারে সেনাবাহিনী

এ উপজেলার বেশিরভাগ সরকারি অফিস এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক ভবনগুলো বন্যা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের নিচতলায় কোমরসমান পানি। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন অফিসে ও হাসপাতাল ভবনে রাতযাপন করছেন। রোববার সকাল থেকে ১০৪ জন সেনাসদস্য উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ কাজে সহায়তা করছেন।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তা এমএল সৈকত জানিয়েছেন, সোমেশ্বরী, ধনু ও কংস নদীর পানিবৃদ্ধি অব্যাহত আছে। কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১১২ সেন্টিমিটার, জারিয়া পয়েন্টে কংসের পানি বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার এবং খালিয়াজুরী পয়েন্টে ধনুর পানি বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে দুর্গাপুর পয়েন্টে সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার ২৭৪ সেন্টিমিটার নিচে চলে এসেছে। এ উপজেলার ৯৫ ভাগ পানিতে তলিয়ে গেছে।

নেত্রকোনায় বিশুদ্ধ পানি-খাবার সংকট, উদ্ধারে সেনাবাহিনী

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ জানান, জেলার কংস, সোমেশ্বরী, উব্দাখালি, ধনুসহ বেশিরভাগ নদ-নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এরই মধ্যে ২৬৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। খালিয়াজুরির ছয়টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুই হাজার ২১০ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

তিনি বলেন, খালিয়াজুরী উপজেলার কৃষ্ণপুর, বল্লভপুর, পাঁচহাট, চাকুয়া, নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ আটকা পড়ে আছেন। সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসতে কাজ করছেন।

এইচ এম কামাল/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।