লাল পতাকা হাতে সহপাঠীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করলো শিক্ষার্থীরা
নোয়াখালীর চাটখিলে এক স্কুলছাত্রীর (১৬) বাড়িতে লাল পতাকা হাতে আন্দোলন করে বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছে সহপাঠী শিক্ষার্থীরা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বর ও কনেপক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
বুধবার (২২ জুন) দুপুরে উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের পশ্চিম বদলকোট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দারুল ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রীর বিয়ের দিন ছিল বুধবার। খবর পেয়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুষমা শারমিনের নেতৃত্বে শতাধিক শিক্ষার্থী লাল পতাকা হাতে বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে আন্দোলন শুরু করে।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এস এম মোসা ওই বাড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্যবিয়ে আয়োজনের প্রমাণ পেয়ে বরপক্ষকে আট হাজার এবং কনেপক্ষকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ভুইয়া বলেন, প্রধান শিক্ষকের ফোন পেয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাই। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। এর পর করতালি দিয়ে ওই ছাত্রীকে ক্লাসে নিয়ে যায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
দুপুরে পর ঘটনার একটি ভিডিও নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেন চাটখিল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ভুইয়া। পরে কয়েক ঘণ্টায় ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। এতে অনেকে ইতিবাচক মন্তব্যও করেন।
প্রধান শিক্ষক সুষমা শারমিন বলেন, আমি উপজেলা বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কমিটির সেক্রেটারি। আমার স্কুলের ছাত্রীর বাল্যবিয়ে হবে তা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা সচেতনতা বাড়াতে ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকদের সমন্বয়ে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছি।
ইকবাল হোসেন মজনু/এমআরআর/এএসএম