উপহারের ঘরে এসি, চলছে সম্প্রসারণ কাজও

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পিরোজপুর
প্রকাশিত: ১১:১০ এএম, ২৪ জুন ২০২২

অতিদরিদ্র হিসেবে পাওয়া উপহারের ঘরে রয়েছে শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), আকাশ ডিটিএইচ, ফ্রিজসহ নানা সামগ্রী। ঘরের বারান্দার অংশ ভেঙে চলছে সম্প্রসারণ কাজও।

ঘটনাটি পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া গ্রামের। জাতীয় পার্টির (জেপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজের ইউনিয়ন কমিটি আহ্বায়ক মো. ইকবাল সেপাই পেয়েছেন উপহারের ঘরটি। উপহারের ঘরে এসি লাগিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে টিআর কর্মসূচির আওতায় গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্প থেকে ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আলম সেপাই ও তার ছেলে ইকবাল সেপাই দুটি ঘর পান।

সম্প্রতি ইকবাল তার ঘরে এসি, আকাশ ডিটিএইচ লাগিয়েছেন। এছাড়া ঘরে রয়েছে ফ্রিজসহ নানা বিলাস সামগ্রী। ইকবালের রয়েছে মোটরসাইকেলও। নিজ খরচে সম্প্রসারণ করছেন উপহারের ঘরটি।

ইকবাল ও তার স্বজনরা জানান, ইকবাল ২০১৩ সালে উপজেলার চন্ডিপুর কে সি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেন। রাজমিস্ত্রি বাবার কাজে সহযোগিতা করে যে টাকা পেতেন তা দিয়ে পড়াশোনার খরচ চালাতেন। এইচএসসিতে ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। ২০১৭ সালে বিয়ে করেন।

pi-(3).jpg

ইকবাল বলেন, ‘বিয়ে যখন করি তখন আমি বেকার। স্ত্রীকে নিয়ে একই এলাকার বাসিন্দা প্রফেসর হারুন অর রশিদের বাসায় ভাড়া থাকতাম। ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সেখানে থেকেছি। রাজমিস্ত্রি বাবার সহযোগী হিসেবে কাজ করে যে টাকা পেতাম তা দিয়ে ঘর ভাড়া দিয়ে সংসার চালাতাম। আমার কোনো জায়গাজমিও ছিল না। পরে দাদি লতিমুননেছার তিন শতক জমি বাবা আমাকে দিয়েছেন। ওই জমিতে সরকারি ঘর করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। আমার ঘরটি যেখানে তার আশপাশে কোনো গাছপালা নেই। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের চাল প্রচণ্ড গরম হয়ে যায়। এক বছর বয়সী মেয়েটি গরমে কষ্ট পায়। এ জন্য একটি এসি কিস্তিতে কিনে উপহারের ঘরে লাগিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এক বছর আগে আমি বালুর ব্যবসা শুরু করি। পরে লোন নিয়ে দেড় লাখ টাকায় একটি ড্রেজার মেশিন কিনেছি। ড্রেজার দিয়ে বালু কেটে এলাকায় সরবরাহ করে প্রতিদিন দুই-তিন হাজার টাকা পাই। এখন কিছুটা সচ্ছল হওয়ায় আমার উপহারের ঘর নিয়ে সমালোচনা করছে কেউ কেউ।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুৎফুন্নেসা খানম বলেন, ‘২০২০ সালে গৃহহীন হিসেবে বালিপাড়া গ্রামের ইকবাল সেপাইকে উপহারের একটি ঘর দেওয়া হয়েছে। তখন সে দিনমজুর ছিলেন। তার মাসিক আয় ছিল ৫ হাজার টাকা। তবে এখন যে তথ্য আছে তাতে সে সচ্ছল। এরপরও ওই সময় কোনো ভুলত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছি।’

এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]