মহাসড়কের ওপর প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নরসিংদী
প্রকাশিত: ০২:৫২ পিএম, ২৫ জুন ২০২২
মরদেহের পাশে স্বজনদের আহাজারি

নরসিংদীর বেলাবতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওপর প্রকাশ্যে কবির হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার (২৫ জুন) দুপুর ১২টার দিকে বেলাবো উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের খামারচর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত কবির হোসেন খামারচর গ্রামের আব্দুল হাই মিয়ার বড় ছেলে। তিনি বারৈচা বাজারে এলপি গ্যাস ও গাড়ির গ্যারেজের ব্যবসা করতেন।

স্বজনরা জানান, কবির প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে গাড়ি ঠিক করার জন্য গ্যারেজের উদ্দেশে বের হয়। তিনি খামারচরে পৌঁছলে পূর্ব শত্রুতার জেরে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। পরে তিনি দৌড়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উঠলে দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে ও গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়। এসময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন ইউপি সদস্য রিনা বেগমের ছেলে সোহরাব ওরফে মুসাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি ছিলেন কবির হোসেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনবছর পলাতক থেকে ২০২০ সালের ২ অক্টোবর গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে গ্রেফতার করে। সম্প্রতি তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় আসেন।

নিহতের বাবা আবদুল হাই বলেন, আমার ছেলে গ্রাম্য রাজনীতির শিকার। গ্রাম্য রাজনীতির কারণে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। কিছুদিন আগে সে জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে আসে। এর পর থেকে সে তার ব্যবসার কাজে মনোযোগ দেয়। তার ব্যবসাও ভালো চলছিল। আজ দুপুরে সন্ত্রাসীরা তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে দিনদুপুরে মহাসড়কের ওপরেই গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে যদি অপরাধী হয় তাহলে আইন তাকে শাস্তি দিতো। এভাবে তাকে কেন হত্যা করা হলো? আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।

নিহতের ভাতিজা আশিক মিয়া বলেন, কাকার সঙ্গে এলাকার কয়েকজনের শত্রুতা ছিল। কাকাকে আজ তারা নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। যারা আমার কাকাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাদের বিচার দাবি করছি।

বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফায়েত হোসেন বলেন, নিহত কবিরের সঙ্গে মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে পাশের এলাকার কয়েকজনের দ্বন্দ্ব ছিল। সে হত্যা মামলারও আসামি ছিল। তবে কী কারণে আজকের হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত হয়েছে তা জানতে আমরা সব বিষয় বিবেচনা রেখেই তদন্ত করছি।

তিনি আরও বলেন, দ্রুত অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সঞ্জিত সাহা/এসজে/এমআরআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]