ইসির ‘সাফল্য ম্লান’ বলে ভাইরাল হওয়া ছবি হাতিয়ার নয়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ০৪:০৩ পিএম, ২৫ জুন ২০২২

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভাইরাল হওয়া ছবিগুলো নোয়াখালীর হাতিয়ার নয়। এগুলো সেনবাগের অর্জুনতলা ইউনিয়নের। যেখানে রাত ৯টার পরও নারীদের ভোট দিতে দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৫ জুন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে নোয়াখালীর সেনবাগের ৫ নম্বর অর্জুনতলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোরকাটা ফোরকানিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে রাত সোয়া ৯টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন নারী ভোটাররা

সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুন নাহার জাগো নিউজকে বলেন, ‘সেদিন বিকেল ৪টার পরও তিন শতাধিক নারী ভোটার কেন্দ্রে লাইনে থাকায় তাদের ভোট গ্রহণ করতে হয়েছে। এতে রাত সোয়া ৯টা বেজে যায়।’

নোয়াখালী জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মেসবাহ উদ্দিন বলেন, ‘ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার ১ হাজার ৩৯৬ জন। এরমধ্যে নারী ৬৮৪ ও পুরুষ ৭১২ জন। কেন্দ্রে পুরুষদের জন্য দুটি বুথ স্থাপিত হলেও নারীদের জন্য মাত্র একটি বুথ স্থাপন করায় তাদের ভোটগ্রহণ শেষ করতে রাত সোয়া ৯টা বেজে যায়।’

noa1

কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবুল ফজল জাগো নিউজকে বলেন, ‘পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকায় রাতের আঁধারেও নারীরা সারিবদ্ধভাবে ভোট দেন। এ সময় ভোট শেষ হওয়া অন্য পুরুষ বুথের কমকর্তারা বন্ধ ইভিএম হাতে নিয়ে বুথে বসেছিলেন। ভোট শেষে তারা ইভিএমগুলো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে জমা দেন।’

এদিকে সেনবাগে ইভিএম হাতে বুথে থাকা কর্মকর্তাদের ওই ছবি দিয়ে শুক্রবার (২৪ জুন) একটি অনলাইনে পোর্টালে এনিয়ে প্রশ্ন তোলায় জেলাব্যাপী মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের দাবি, যে ছবি ভাইরাল করা হয়েছে এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, মূলত সেই ছবিটি হাতিয়ার হরণী বা চানন্দীর কোনো ইউনিয়ন ভোটের ছবি নয়।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমির হোসেন বলেন, ‘অন্য ইউনিয়নের ছবি দিয়ে হাতিয়ার ভোটকে বিতর্কিত করা দুঃখজনক। এখানে যে কেন্দ্রেই প্রার্থীর লোকজন প্রভাব বিস্তার করতে চেয়েছে সেখানেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়েছে। নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রের ভেতরের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত ভালো।’

noa1

হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, তফসিল ঘোষণার আগ থেকে হাতিয়ার দুই ইউনিয়নের ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। নির্বাচনে জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করার পরও তারা ষড়যন্ত্র বন্ধ করেনি। তিনি দাবি করেন, ১৫ জুন হাতিয়ায় ইভিএমে অবাধ, সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘১৫ জুন নোয়াখালীর চার উপজেলার সাত ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ হয়েছে। সবগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘হাতিয়ার দুই ইউনিয়নে নিরাপত্তায় আনসার, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি কোস্ট গার্ড সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়। কোনো ইউনিয়নেই নিরাপত্তার কোনো কমতি ছিল না।’

Result.jpg

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘হাতিয়ার নির্বাচনে ইসির সাফল্য ম্লান কথাটি সত্য নয়। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু করতে প্রশাসন যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেছে। পরাজিত প্রার্থীদের সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মিথ্যা ছবি দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা দুঃখজনক।’

১৫ জুন অনুষ্ঠিত হাতিয়ার দুই ইউনিয়নের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের আজহার উদ্দিন ৭ হাজার ৮১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঢোল প্রতীকের আমিরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ২৯০ ভোট।

noa1

হরণী ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের আখতার হোসেন ৭ হাজার ৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মুশফিকুর রহমান ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৬৩৫ ভোট।

১৫ জুন নোয়াখালীর চার উপজেলায় সাত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এগুলো হলো সদরের বিনোদপুর, বেগমগঞ্জের মীর ওয়ারিশপুর, সেনবাগের কেশারপাড়, অর্জুনতলা, মোহাম্মদপুর এবং হাতিয়ার হরণী ও চানন্দী।

ইকবাল হোসেন মজনু/এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]