৮ লাখে বিক্রি হবে ৩২ মণের ‘লাল বাদশাহ’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পিরোজপুর
প্রকাশিত: ১১:০৩ এএম, ০৩ জুলাই ২০২২
বিশাল আকৃতির গরুটি বাইরে নিতে সাত-আটজন লোক লাগে

পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের ভোরা এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন। চার বছর ধরে শাহীওয়াল জাতের একটি ষাঁড় গরু পালন করে আসছেন তিনি। দেখতে টকটকে লাল আর বাদশাহী দাপটের জন্য নাম রেখেছেন ‘লাল বাদশাহ’।

সাড়ে ৫ ফুট উচ্চতা ও ৮ ফুট ৪ ইঞ্চি লম্বা এ ষাঁড়ের ওজন ৩২ মণ। এবারের কোরবানির ঈদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে গরুটি। দাম হাঁকা হচ্ছে ৮ লাখ টাকা। বিশাল আকৃতির এ ষাঁড় দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা ও ব্যবসায়ীরা।

সাখাওয়াত হোসেনের প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর খান বলেন, ‘লাল বাদশাহকে দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় জমেছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছে তাদের বাড়িতে। অনেকে আবার বাদশাহর সঙ্গে সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করছেন। যে কারণে লাল বাদশাহকে দেখার ভিড় বেড়েই চলেছে।’

pi-(2)

গরুর মালিক সাখাওয়াত বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে ষাঁড়টিকে প্রাকৃতিক উপায়ে প্রস্তুত করি। খৈল, অ্যাংকর, মুগ ডালের ভুসি, কাঁচা ঘাস ও খড়সহ সব দেশীয় খাদ্য খাওয়ানো হয়েছে। ষাঁড়টি ঘর থেকে বের করতে সাত-আটজন লোকের প্রয়োজন হয়। দিনে তিন থেকে চার বার গোসল করাতে হয়। বর্তমানে লাল বাদশাহর ওজন ৩২ মণ হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছয়মাস বয়সে তখন ৪০ হাজার টাকা দিয়ে গরুটি কিনেছিলাম। চার বছর ধরে লালন-পালন করছি। প্রথমদিকে খরচ কম হলেও লাল বাদশাহর পেছনে এখন প্রতিদিন গড়ে ১০০০ টাকা খরচ হয়। আমার একটা গাভী ছিল, তা ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে সব টাকা বাদশাহর পেছনে খরচ করেছি। এত বড় গরু এখন রাখাটাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ঈদে ষাঁড়টিকে বিক্রি করতে না পারলে আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতি হবে। ৮ লাখ টাকায় ষাঁড়টি বিক্রি করতে পারলে খরচ উঠবে।’

jagonews24

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘সাখাওয়াত অনেক কষ্ট করে প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটি লালন-পালন করেছেন। চার বছর ধরে তিনি গরুটি তৈরি করেছেন। এ বছর কোরবানিতে ষাঁড়টি বিক্রি করবেন।’

পিরোজপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শুভঙ্কর দত্ত বলেন, গরুটির খোঁজ রাখছি। আমাদের জানামতে এ উপজেলায় এ ষাঁড়টিই সবচেয়ে বড়। এছাড়াও কোরবানি উপলক্ষে এ উপজেলায় ৩ হাজার ৩৮০টি গরু ও ৪ হাজার ৫৪৫টি ছাগল-ভেড়া প্রস্তুত রয়েছে।

এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]