দখলমুক্ত হচ্ছে বাগেরহাটের হোজির নদী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৯:২০ পিএম, ০৪ জুলাই ২০২২

বাগেরহাটের হোজির নদী দখলমুক্তের কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর নিচে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে অন্তত ছয় কিলোমিটার নদী দখল করে মাছ চাষ করতেন স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী।

এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সোমবার (৪ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলামের নেতৃত্বে হোজির ব্রিজের নিচের বাঁধ অপসারণ শুরু হয়।

jagonews24

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদীটিতে বাঁধ দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাছ চাষ করতেন। নদীর বাঁধ কাটায় তাদের খুব উপকার হয়েছে। এখন নদী থেকে মাছ ধরতে পারবেন, নদীতে গোসল করতে পারবেন, নদীতে নৌকা চালাতে পারবেন। এক কথায় নিজেদের প্রয়োজনমত নদী ব্যবহার করতে পারবেন তারা। তবে আবারও যেন নদীটি দখল না হয় সেজন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, দেশের ৬৪টি জেলায় অভ্যন্তরীণ ছোট নদী, খাল ও জলাশয় খনন প্রকল্পের আওতায় ডেমা ইউনিয়নের হোজির নদীটি খনন করা হয়। ৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নদীটি খননের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু দখলমুক্ত না হওয়ায় নদীর সুফল পাচ্ছিলেন না স্থানীয়রা।

jagonews24

এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দেখেছি হোজির নদীতে মাটির বাঁধ, নেটপাটা ও নেট দিয়ে মাছ চাষ হচ্ছিল। আমরা হোজির ব্রিজের নিচে দেওয়া বাঁধটি অপসারণ করেছি। এই নদীর অন্যান্য স্থানে যেসব বাঁধ, নেটপাটা রয়েছে, সেগুলোও অপসারণের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে কেউ যদি আবার দখল করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসময় সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফেরদাউস আনছারি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি, জেলা পুলিশের সদস্য, ডেমা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামপুলিশসহ স্থানীয় গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।