মোংলায় চিংড়ি ঘের থেকে বের হওয়া গ্যাসের উদগিরণস্থল পরিদর্শন
বাগেরহাটের মোংলায় চিংড়ি ঘের থেকে ওঠা গ্যাসের উদগিরণস্থল পরিদর্শন করেছে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের একটি দল।
সোমবার (৪ জুলাই) বিকেলে উপজেলার মিঠাখালী গ্রামের দেলোয়ার শেখের চিংড়ি ঘেরে গ্যাসের উদগিরণস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) খন্দকার মো. রেজাউল করিম ও জেলা এলজিআরডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুজ্জামান।
এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, সেখানে আপতত খুব বেশি একটা ভয়ের কিছু নেই। তবে যদি উদগিরণ বেড়ে যায় সেক্ষেত্রে অবশ্যই ঝুঁকি রয়েছে। তাই উদগিরণস্থল থেকে লাইন টেনে যে রান্নাবান্না করা হচ্ছে সেটি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। কারণ এ থেকে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পর্যবেক্ষণে সেখানে গ্যাসের অস্তিত্ব আছে বলে মনে হয়েছে। কারণ বের হওয়া দাহ্য পদার্থে আগুন জ্বলছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে এ গ্যাসের ব্যবহারের জন্য ব্যবস্থা নিতে মঙ্গলবার সকালেই মন্ত্রণালয়ে লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
বাগেরহাট এলজিআরডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থলে গ্যাসের অস্তিত্ব আছে। এখন বিশেষজ্ঞরা মাইনিং করে দেখবেন কত নিচে এবং কী পরিমাণ অর্থাৎ কত কিউসেক গ্যাস রয়েছে এবং তা লাভজনক হবে কি না। লাভজনক হলে উত্তোলনের উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এছাড়া এ গ্যাসের উদগিরণ ফোর্স বাড়লে তাতে ঝুঁকিও থাকছে।
প্রায় ছয় বছর ধরেই মোংলার মিঠাখালী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বপাড়ার দেলোয়ার শেখের পৌনে তিন বিঘার চিংড়ি ঘের থেকে এই গ্যাসের উদগিরণ হয়ে আসছে। ওই সময় ঘের মালিক জমি থেকে বালু-মাটি উত্তোলনের জন্য ৬০ ফুট গভীরতার পাইপ বসালেই সেখান থেকে গ্যাস উঠতে থাকে। তখন তা কম হলেও গত সপ্তাহ থেকে উদগিরণ বেড়ে গেছে। আগে দুই এক জায়গা থেকে বের হলেও এখন তা সাত আট জায়গা থেকে বের হচ্ছে। বেশি পরিমাণ বের হওয়ায় গত সোমবার সেখান থেকে লাইন টেনে তা দিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে চুলায় রান্না করছে দেলোয়ারের পরিবার।
এমআরআর/কেএসআর