মোংলায় সরকারি খালের অবৈধ বাঁধ অপসারণ শুরু
বাগেরহাটের মোংলায় সরকারি খালের অবৈধ বাঁধ অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে বাঁধ অপসারণের কাজ শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন।
কালিকাবাড়ী খালে বাঁধ থাকায় চলতি বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকায় সিলেটের মতো বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ বাঁধ কাটায় সাধারণ মানুষের জলাবদ্ধতার নিরসন হবে।
বাঁধ অপসারণ অভিযানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমলেশ মজুমদারের সঙ্গে রয়েছেন কোস্ট গার্ড, পুলিশ, আনসারসহ ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

ইউএনও কমলেশ মজুমদার জানান, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ৫৫টি সরকারি রেকর্ডিয় খাল রয়েছে। প্রতিটি খালে এক বা একাধিক বাঁধ দিয়ে চিংড়ি ঘের করে আসছিলেন স্থানীয় জমি ও ঘের মালিকরা। বুধবার সকাল থেকে এসব খালের অবৈধ বাঁধ অপসারণের কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রথমেই চাঁদপাই ইউনিয়নের কালিকাবাড়ী তারপর কাঠালতলা খালের বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে।
৫৫টি খালে প্রায় শ খানেক বাঁধ রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব বাঁধই অপসারণ করা হবে বলে জানান ইউএনও।

কালিকাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা শংকর বৈদ্য বলেন, ‘বাঁধ অপসারণ করায় আমরা গ্রামবাসী ইউএনও স্যার ও সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। এতদিন আমরা জলাবদ্ধতায় ছিলাম, খুব কষ্ট হতো। এখন পানি নিষ্কাশন হবে। আমরা উপকৃত হবো।’
একই গ্রামের অনিল মন্ডল বলেন, ‘খাল আটকা থাকায় আমাদের ধান ও মাছ কোনোটাই হচ্ছে না। বিলে ভরা পানি। ঘাসও নেই। গরু-ছাগল পুষতে পারি না। খাল কাটায় উপকার হবে। জমিতে পানি ওঠানামা করবে, জলাবদ্ধতা থাকবে না।’

এ বিষয়ে চাঁদপাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোল্লা তারিকুল ইসলাম বলেন, খালে বাঁধ থাকায় পানি নামতে পারে না। এজন্য কালিকাবাড়ী এলাকাজুড়ে সিলেটের মতো বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ এলাকার দুটি খালের বাঁধ কাটায় এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাবে কয়েক গ্রামের মানুষ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার বলেন, সরকারি খালে যারা বাঁধ দিয়ে রেখেছেন তাদের তা অপসারণে একমাস আগে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা অপসারণ না করায় আমরা তা কাটতে মাঠে নেমেছি। এখানে কাউকে কোনোরকম ছাড় দেওয়া হবে না। সব বাঁধ অপসারণ করে খাল উন্মুক্ত রাখা হবে।
এসআর/এএসএম