দিনাজপুরে বিক্রি হয়নি ছাগলের চামড়া, পড়ে আছে ভাগাড়ে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৮:৫৫ পিএম, ১২ জুলাই ২০২২

দিনাজপুরে কোরবানির ছাগলের চামড়া বিক্রি করতে পারেননি মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তারা এগুলো আড়তে ফেলে যান। পরে পৌরসভার বর্জ্যবাহী গাড়িতে করে এসব চামড়া ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়।

দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার সবচেয়ে বড় চামড়ার আড়ত বলে পরিচিত রামনগর চামড়ার আড়তে এ ঘটনা ঘটে।

কোরবানির পর শহরের রামনগর চামড়া বাজারে ফেলে দেওয়া এসব চামড়া সোমবার (১১ জুলাই) সকালে পৌরসভার বর্জ্যবাহী গাড়িতে নিয়ে তা মাতাসাগর ডাম্পিং স্টেশনে ফেলে দেন পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা।

jagonews24

দিনাজপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র তৈয়ব আলী দুলাল জানান, রামনগর বাজারে রেখে যাওয়া ছাগলের শত শত চামড়া পৌরসভার ডাম্পিংয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

সদর উপজেলার কমলপুর বাজারের চামড়া ব্যবসায়ী মো. হামিদুর রহমান জানান, তিনি গরুর চামড়া কিনলেও ছাগলের চামড়া কেনেননি।

শহরের খোদমাধবপুর মিস্ত্রিপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি আইনুল হক ও মিস্ত্রিপাড়া উন্নয়ন সংঘের সভাপতি এনামুল হক বলেন, ‘প্রতিবারের মতো এবারও মসজিদ ও ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় পুরো মহল্লার মাংস চামড়া সংগ্রহ করা হয়। পরে ডাকের (নিলাম) মাধ্যমে গরুর ২৫টি চামড়া সাড়ে ৯ হাজার টাকায় বিক্রি করা গেরেও ২১টি ছাগলের চামড়া বিক্রি করা যায়নি। একপ্রকার জোর করেই চামড়া ব্যবসায়ীর ভ্যানে চামড়াগুলো বিনামূল্যে তুলে দেওয়া হয়।’

jagonews24

অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী ছাগলের চামড়া বিক্রি করতে পারেননি বলে জানান কাওগাঁ এলাকার মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী সোলায়মান ও বিরল উপজেলার হুসেন আলী।

তারা রামনগর চামড়া বাজারে ছাগলের শত শত চামড়া ফেলে রেখে চলে যান। কারণ চামড়া ফেরত নিয়ে গেলে বাড়তি খরচ তাদেরই করতে হবে। আবার তা মাটিতে পুঁতে ফেলার কষ্ট করতে হবে। এজন্য ফেলে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্যানেল মেয়র আবু তৈয়ব আলী দুলাল জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকার ছাগলের চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৮-২০ টাকা দাম নির্ধারণ করে দিলেও মোকামে দাম নেই। একটি ছাগলের চামড়া ১০ টাকায়ও বিক্রি করতে পারেনি মৌসুমি বিক্রেতারা। কারণ আড়তে ছাগলের চামড়ার কোনো চাহিদা ছিল না।’

jagonews24

তিনি বলেন, ‘আমার পরিচালিত দুটি মাদরাসাসহ শহরের কয়েকটি মাদরাসা থেকে সংগ্রহ করা ছাগলের চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী নিজ উদ্যোগে মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন। আমার জানামতে, অনেক কোরবানিদাতাও চামড়া বিক্রি করতে না পেরে একই পথ অনুসরণ করেছেন।’

ছাগলের চামড়া ফেলে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে দিনাজপুর চামড়া মালিক গ্রুপের সভাপতি জুলফিকার আলী স্বপন বলেন, ‘ট্যানারিগুলোতে ছাগলের চামড়ার কোনো চাহিদা নেই। চামড়া কেনার পর তা প্রক্রিয়াজাত করতে খরচ আছে। ফলে এই চামড়া কিনে কেউ ঝুঁকি নেননি। অনেকে চামড়া ফেলে গেছেন। পরে পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছেন।’

এমদাদুল হক মিলন/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।