অব্যাহতির চিঠি নিয়ে আ’লীগ নেতাকর্মীদের সংবাদ সম্মেলন

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক হিলি (দিনাজপুর)
প্রকাশিত: ০৯:০৭ পিএম, ১৬ জুলাই ২০২২

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম রাজুকে অব্যাহতি দেওয়া একটি চিঠি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ওই চিঠিটি ভুয়া আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।

শনিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগ কমিটির ৪০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ১৪ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি চিঠি ভাইরাল হয়। এতে বলা হয়, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০১৮ সালে যারা সংগঠনের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের সাধারণ সদস্যপদ বহাল থাকবে।

ওই নির্দেশনা কার্যকরের নিমিত্তে বিরামপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী মো.খায়রুল আলম রাজুকে বিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.পারভেজ কবিরকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলো।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাড়গোপাল কুন্ডু বলেন, গত কয়েক দিন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম রাজুকে অব্যাহতি দিয়ে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পারভেজ কবিরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি খায়রুল আলম রাজুকে দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয় সংগঠনের আদর্শ ও শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে আপনার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

নাড়গোপাল কুন্ডু বলেন, পরে উপজেলা খায়রুল আলম রাজু ওই বছর ১৫ সেপ্টেম্বর ভবিষ্যতে সংগঠনের স্বার্থ পরিপন্থী কার্যক্রম ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার শর্তে ক্ষমা চেয়ে চিঠির উত্তর দেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে ওই বছর ২১ অক্টোবর ওবায়দুল কাদের সংগঠনের স্বার্থ পরিপন্থী কার্যক্রম ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার শর্তে ক্ষমা করে একটি চিঠি দেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, যে চিঠিতে খায়রুল আলম রাজুকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে সেটি এবছর ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখের। যথা সময় পত্রটি না পাঠিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইমাম চৌধুরী চলতি মাসের ১৪ তারিখে প্রকাশ করেছেন। সামনে কাউন্সিলে নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের লোক বসানোর ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রাজু, পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য অধ্যাপক আক্কাস আলী, সহ-সভাপতি দিলিপ কুমার, সাংগঠনিক মোশফিকুর রহিমসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির ৪০ জন নেতা।

২৮ ফেব্রুয়ারি চিঠিটি ইস্যু হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইমাম চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, বর্ধিত সভায় সিদ্ধান্তক্রমে চিঠিটি ইস্যু করা হয়েছে। এছাড়া দলের গঠনতন্ত্রে বলা আছে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ এবং বিদ্রোহী প্রার্থীরা তাদের পথ থেকে অব্যাহতি পাবে।

মো. মাহাবুর রহমান/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।