ছেলের অপারেশনের টাকা জোগাতে কলেজশিক্ষক বাবার আকুতি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ০৮:৫৩ পিএম, ০৬ আগস্ট ২০২২
বাবার কোলে শিশু জারিফ

মাত্র আড়াই মাস বয়সে হৃদরোগ ধরা পড়ে শিশু জারিফের। এরপর থেকে গত আড়াই বছর ধরে চলছে চিকিৎসা। ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাতে সহায় সম্পদের প্রায় সবটায় বিক্রি করে দিয়েছেন ননএমপিও বেসরকারি কলেজশিক্ষক বাবা। চিকিৎসক জানিয়েছেন, ভারতে নিয়ে ওপেন হার্ট সার্জারি করে জারিফের হার্টের ফুটোর অপারেশন করতে হবে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হবে যা শিশুটির বাবার পক্ষে যোগাড় করা অসম্ভব। তাই সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

শিশু জারিফ আল মাহমুদ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের দোলাপাড়া গ্রামের বেসরকারি কলেজ শিক্ষক জহুরুল হকের আড়াই বছর বয়সী ছেলে। জহুরুল হক স্থানীয় ফকিরপাড়া আদর্শ মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের ননএমপিও শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা গেছে, জহুরুল হকের আড়াই বছরের ছেলে জারিফ আল মাহমুদের জন্মের পরপরই হৃদপিণ্ডে ফুটো ধরা পড়ে। এরপর ছেলেকে বাঁচাতে দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আসছেন জহুরুল হক। ছেলের চিকিৎসার জন্য ধারদেনা ও জায়গা-জমি বিক্রি করে এখন প্রায় নিঃস্ব তিনি। জায়গা জমি বলতে বাড়ি ভিটে ছাড়া কিছুই বাকি নেই তার।

শিশুটির বাবা জানান, করোনালে ২০২০ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জারিফকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি ঢাকা ল্যাবএইড হাসপাতালের চিকিৎসক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. নুরুন নাহার ফাতেমা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন শিশুটির দুইটি হার্টেই ফুটো রয়েছে। এজন্য তাকে ভারতে নিয়ে ওপেন হার্ট সার্জারি করার পরামর্শ দেন তিনি। জারিফকে ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন। তার পরিবারের পক্ষে এত টাকা যোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

কলেজশিক্ষক জহুরুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ছেলেকে ভারতে নিয়ে ওপেন হার্ট সার্জারিসহ চিকিৎসাবাবদ প্রায় ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এত টাকা যোগাড় করার মতো সামর্থ্য আমার পরিবারের নেই। তাই ছেলের অপারেশনের জন্য সমাজের বিত্তবানদের সহায়তায় কামনা করছি।

শিশুর মা নার্গিস আক্তার বলেন, দুটি সন্তানের মধ্যে প্রথমটি মেয়ে দ্বিতীয়টি ছেলে। ছেলের জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। এতে অনেক টাকা শেষ হয়েছে আমাদের। এখন ছেলের অপারেশনের জন্য প্রচুর টাকা প্রয়োজন। এজন্য সবার সাহায্য কামনা করছি।

এ বিষয়ে বড়খাতা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা জামাল সোহেল বলেন, জহুরুল হকের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই নিজের উপার্জনের টাকায় পড়াশোনা করেছেন। সৃষ্টিকর্তা তাকে দুটি সন্তান দিয়েছেন। এরমধ্যে ছেলেটি জন্মের পরই হৃদরোগে আক্রান্ত। তার অপারেশনের জন্য প্রচুর টাকার প্রয়োজন। তাই সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করছি।

রবিউল হাসান/এমআরআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]