বাসে গৃহবধূকে ধর্ষণ: আদালতে পাঁচ আসামির স্বীকারোক্তি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ০৭:৩৮ পিএম, ০৭ আগস্ট ২০২২

গাজীপুরে তাকওয়া পরিবহনের একটি বাসে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার পাঁচ আসামি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (৭ আগস্ট) বিকেলে পৃথক আদালতে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

এছাড়া ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূর ডাক্তারি পরীক্ষা দুপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসক এএনএম আল মামুন জানান, ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তারপরও ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ওই নারীর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আলামত পাঠানো হয়েছে।

গাজীপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইখলাস উদ্দিনের আদালতে আসামি সজিব ও শাহীন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মো. রকিব মোল্লা ও সুমন হাসান জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জেনিফার জেরিনের আদালতে ও আসামি মো. সুমন খান জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জুবাইদা নাসরিন বর্নার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এছাড়া ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আরা সুলতানার আদালতে জবানবন্দি দেন।

পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, আসামিরা ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের কয়েকটি টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত সব আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল আজিজ বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ প্রথমে শ্রীপুরের কদমতলী এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করে। পরে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে অন্য দুজনকে গ্রেফতার বাসটি জব্দ করা হয়।

মো. রাকিব মোল্লা (২৩) নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার দরিপাড়া গ্রামের আলী আকবরের ছেলে, সুমন খান (২০) নেত্রকোনা জেলার সদর উপজেলার গুপিরঝুপা গ্রামের মৃত সানোয়ারের ছেলে। তিনি ওই বাসের চালক, মো. সজিব (২৩) ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানার কাঁঠালকাচারি গ্রামের মৃত কফিলের ছেলে, মো. শাহিন মিয়া (১৯) একই জেলার হালুয়াঘাট থানার বিলডোলা গ্রামের তুলা মিয়ার ছেলে ও মো. সুমন হাসান (২২) খুলনার রূপসা থানার খান মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত নুর আলমের ছেলে।

এর আগে শনিবার নওগাঁ থেকে রাত ৩টার দিকে গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া বাইপাসে স্বামীর সঙ্গে নামেন এক নারী। ময়মনসিংহের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় ভাড়াবাড়িতে যেতে অন্য একটি গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। রাত ৩টা ১০ মিনিটে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে তাকওয়া পরিবহনে উঠে ওই বাসে ৬-৭ জন যাত্রী দেখতে পান। রওয়ানা দেওয়ার কিছু সময় পর বাসটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের হোতাপাড়ায় পৌঁছালে দুজন যাত্রী নেমে যান। রাত ৩টা ৪০ মিনিটে বাসটি মহাসড়কের মাওনা চৌরাস্তা ফ্লাইওভার পার হয়ে কিছু দূর সামনে গেলে চলন্ত বাসে থাকা অজ্ঞাতনামা দু-তিনজন লোক হঠাৎ ওই নারীর স্বামীকে মারধর শুরু করলে তাদের ঠেকানোর চেষ্টা করেন ওই নারী।

এ সময় অজ্ঞাত লোকজন ওই নারীর মুখ চেপে ধরে রাখেন এবং তার স্বামীকে মারধর করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এমসি বাজার এলাকায় চলন্ত বাস থেকে ফেলে দিয়ে ওই নারীকে নিয়ে ঢাকার দিকে চলে যায়। স্বামী বাস থেকে পড়ে আঘাত পেয়ে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকার বোনের বাসায় চলে যান। সকালে অপরিচিত একটি মোবাইল থেকে ফোন করে ওই নারী বিস্তারিত ঘটনা জানান। তিনি জয়দেবপুর থানায় আছেন বলে স্বামীকে জানান।

মো. আমিনুল ইসলাম/আরএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।