ফেনীতে পুলিশের স্বর্ণ ডাকাতি: একবছরেও হয়নি চার্জশিট

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০৩:৫১ পিএম, ১১ আগস্ট ২০২২
ফেনীতে স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ডিবির ছয় সদস্য

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী সদর উপজেলার ফতেহপুরে স্বর্ণের বার ডাকাতির ঘটনার মামলার একবছর পেরিয়ে গেলেও চার্জশিট দিতে পারেনি তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলায় গ্রেফতার পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ছয় সদস্যের মধ্যে দুইজন জামিনে রয়েছেন।

মামলার সূত্র মতে, গত বছরের ৮ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরের হাজারী গলির স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাশ ২০টি স্বর্ণের বার নিয়ে প্রাইভেটকারে ঢাকা যাচ্ছিলেন। পথে সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী শহরতলীর ফতেহপুর রেলওয়ে ওভারপাস এলাকায় ডিবি পুলিশ সদস্যরা তার গাড়ির গতিরোধ করেন। এরপর গোপাল কান্তি দাশকে আটক করে পাশের নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তল্লাশির নামে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করে স্বর্ণের বারগুলো ছিনিয়ে নেন এবং এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে ছেড়ে দেন।

এ ঘটনার পরদিন ওই ব্যবসায়ী চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান। অভিযোগ পেয়ে ফেনী জেলা পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। এ ঘটনায় ডিবির পরিদর্শকসহ ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওই ব্যবসায়ী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ১০ আগস্ট রাতে ফেনী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক মোতাহার হোসেন, নুরুল হক, মিজানুর রহমান, সহকারী উপ-পরিদর্শক অভিজিৎ বড়ুয়া ও মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করে জেলা পুলিশ। একই সঙ্গে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে তাদের হেফাজত থেকে ১৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে পুলিশ। কয়েক দফা রিমান্ড শেষে ওই ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠান আদালত।

এ ঘটনায় মামলার বাদী ব্যবসায়ী গোপাল দাশের সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার সমিদুল আলম ভুট্টো গত বছরের ১৫ আগস্ট ডাকাতির ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাকেও মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ১৮ আগস্ট ডিবি পুলিশের গাড়িচালক মঈনুল হোসেন ও আমজাদ হোসেন তুহিন এবং ২৩ আগস্ট মামলার বাদীর গাড়িচালক শওকত আলী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

২২ সেপ্টেম্বর ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত এসআই ফিরোজ আলমকে গ্রেফতার করে পিবিআই। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে হৃদরোগে মারা যান তিনি।

গ্রেফতার ৬ পুলিশ সদস্যসহ সাতজনের মধ্যে বর্তমানে কারাগারে আছেন চার পুলিশ সদস্য। এসআই মোতাহের হোসেন ও নুরুল হক এবং বাদীর ব্যবসায়িক অংশীদার সমিদুল আলম ভুট্টো উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, মামলার অন্যতম আসামি ফিরোজের দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো।

এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।