ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি, স্থায়ী চিকিৎসক নেই ফরিদপুর কারাগারে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৪:৫৯ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২২
ফরিদপুর জেলা কারাগার

ফরিদপুর জেলা কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ বন্দি থাকায় নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কারাগারে সার্বক্ষণিক নেই কোনো চিকিৎসক। আর এই চিকিৎসক সংকটের কারণে পর্যাপ্ত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বন্দিরা। বন্দিশালার কেউ অসুস্থ হলে কারাগারে মেলে না যথাযথ চিকিৎসা। সেবা নিতে যেতে হয় কয়েক কিলোমিটার দূরে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

কারাগারের চাহিদা অনুযায়ী সর্বনিম্ন তিনজন চিকিৎসক দরকার হলেও বর্তমানে আছেন মাত্র একজন। তাও তিনি সার্বক্ষণিক নয়, প্রেষণে দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া আবাসন সংকটের পাশাপাশি এখানে স্টাফ সংকটও রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩৪ একর জায়গা নিয়ে শহরের প্রাণকেন্দ্র মুজিব সড়কের ঝিলটুলী এলাকায় ১৮২৫ সালে কারাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পুরো জায়গার মধ্যে ৯ একর জায়গায় রয়েছে বন্দিদের থাকার স্থাপনা। এর মধ্যে টিনশেড একটি মাত্র কক্ষ অসুস্থ বন্দিদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু ওই কক্ষটির অবস্থা একেবারেই নাজুক। ব্যবহারের অনুপযোগী। আর বাকি ২৫ একর জায়গায় রয়েছে পুকুর ও কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন।

শনিবার (১৩ আগস্ট) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কারাগারটিতে স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা ৪২০ জনের। বর্তমানে এখানে বন্দির সংখ্যা ৯৬০ জন। তার মধ্যে ৯৪৩ জন পুরুষ ও ১৭ নারী বন্দি রয়েছেন। যদিও প্রতিদিন বন্দিসংখ্যা ওঠানামা করে।

জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, এ কারাগারে সহকারী সার্জনের একটি পদ রয়েছে, যা শূন্য আছে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। গত তিন মাসে এখান থেকে এক হাজার ৫০ জন বন্দি বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে দুজন বন্দি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এছাড়া গত এক মাসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন এক বন্দি। কারাগারে বন্দিদের জন্য দুই থেকে তিনজন চিকিৎসক দরকার। এছাড়া অসুস্থ বন্দিদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য পৃথক একটি হাসপাতাল, তিন থেকে চারজন নার্স ও প্যাথলজি পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা দরকার। আশপাশের অন্য জেলার কারাগারগুলো থেকেও অসুস্থ বন্দিরা ফরিদপুর কারাগারে আসেন। কারাবিধি অনুসারে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কারারক্ষীদের প্রহরায় সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ফরিদপুর জজ কোর্টের আইনজীবী শেখ সেলিমুজ্জামান রুকু জাগো নিউজকে বলেন, ফরিদপুরের কারাগারের ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি বন্দি থাকায় স্বাভাবিকভাবেই নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া চিকিৎসক সংকটের কারণে কারাগারে বন্দিদের
চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুনজর দেওয়া উচিত।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. সিদ্দিকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, স্বাস্থ্যবিভাগ থেকে একজন চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখেন। এছাড়া আমাদের কাছে চিকিৎসার জন্য কোনো সহযোগিতা চাইলে সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্ব সহকারে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জেলার মো. নিজাম উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, এখানে প্রধান সমস্যা চিকিৎসক সংকট। একটি চারতলা ভবন থাকলেও আবাসন সংকট রয়েছে। এছাড়া স্টাফ সংকট রয়েছে। বর্তমানে ১৭৪ জন স্টাফ আছে, চাহিদা অনুযায়ী আরও প্রয়োজন। এসব ছাড়া তেমন কোনো সমস্যা নেই।

তিনি বলেন, সব মিলিয়ে এখানকার পরিস্থিতি ভালো। বর্তমানে (শনিবার পর্যন্ত) এ বন্দিশালায় ৯৬০ জন বন্দি রয়েছেন। তার মধ্যে ১৭ জন নারী ও ৯৪৩ জন পুরুষ বন্দি রয়েছেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের জেল সুপার আল মামুন জাগো নিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের পদটি শূন্য রয়েছে। এমন অবস্থা দেশের ৬০টি জেলায়। আমাদের এখানে স্থায়ী চিকিৎসক সংকট, তবে চিকিৎসার অভাব নেই। ডাক্তারের প্রয়োজন হলে সঙ্গে সঙ্গেই পাওয়া যায়। এছাড়া বন্দিশালার কেউ অসুস্থ হলে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখানে একজন চিকিৎসক প্রেষণে দায়িত্বে আছেন। তিনি মাঝেমধ্যে আসেন।

তিনি আরও বলেন, দ্বিগুণ বন্দিতে কোনো সমস্যা নেই। তিনগুণ হলে সমস্যা হয়। ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নতুন ভবন পাস হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের পর এ সমস্যাও কেটে যাবে।

এ প্রসঙ্গে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে একজন চিকিৎসককে কারাগারে সংযুক্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বন্দিদের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজ নেওয়া হয়। এছাড়া বড় ধরনের কোনো সমস্যার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এন কে বি নয়ন/এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।