‘এহন মইচ ভর্তা দিয়াও ভাত খাওনের জো নাই’

নাসিম উদ্দিন নাসিম উদ্দিন , জেলা প্রতিনিধি, জামালপুর
প্রকাশিত: ০৩:৩৮ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২২

‘দোহানে গিয়া ১০ ট্যাহার (টাকার) মইচ (মরিচ) চাইলে দিবার পায় না দোহানদার (দোকানদার)। কিন্তু আমার কাছে আছেই ১০ ট্যাহা। তাইলে কিবাই (কীভাবে) ১০ ট্যাহার বেশি মইচ কিনমু। আগে তাও কিছু না থাকলেও মইচ দিয়া, ডাইল দিয়া দুই চারটা ভাত আল্লাহ মাফাইছে (ব্যবস্থা করেছে)। এহন (এখন) যে দাম তাতে মইচ ভর্তা দিয়া ভাত খাওনেরও জো (উপায়) নাই।’

পথের ধারে বসে এভাবেই জাগো নিউজকে কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন কৃষক মঈন উদ্দিন। তিনি জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইতের সীমান্তঘেঁষা রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত ফয়েজ শেখের ছেলে।

সম্প্রতি জ্বালানি তেল, সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রায়।

মঈন উদ্দিন বলেন, ‘চাউলের দাম বাড়ছে, তেলের দাম বাড়ছে, কিন্তু কামাইতো বাড়ে নাই। এখন এক বিঘা জমি আবাদ করতে ১৫০০ টাকার পানির বিল, ১৫০০ টাকা হালের (চাষাবাদ) বিল, সার লাগে ১১০০ টাকা, বিষ লাগে ১০০ টাকা, তিনজন কামলা (শ্রমিক) বিল ২১০০ টাকা, কামলার খাবার খরচ তিনবেলা ৪৫০ টাকা। নিড়ানির সময় তিন শ্রমিকের আবারও ২১০০ টাকা। সঙ্গে আবার খাবার খরচ ৪৫০ টাকা। কাটার সময় আবার তিন কামলার বিল ২১০০ টাকা, খাবার খরচ ৪৫০ টাকা। সবশেষ ধান ঘরে উঠাইতে আবারও একজন কৃষকের বিঘাপ্রতি ৭০০ টাকা লাগে। এত টাকা খরচ করে ধান ঘরে তোলার পর বিক্রি করতে হয় কম টাকায়। তখন ধানের বাজার থাকে ৫০০-৬০০ টাকা। ওইসময় ক্ষেতের ধান বেইচা লাভ বলতে কিছু থাহে না।’

jagonews24

রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মঈন উদ্দিনের কথা শুনছিলেন আমিনুল ইসলাম। তিনি একটি কীটনাশক কোম্পানিতে কাজ করেন। তিনি এগিয়ে এসে বললেন, ‘গতবছর জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছিলাম। সেই জমিতে সর্বসাকুল্যে সাড়ে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। ঠিক সেই একই জমিতে এখন খরচ হচ্ছে ১৮ থেকে ১৯ হাজার টাকা। তাইলে কৃষক কেমনে বাঁচবে, কেমনে তারা আবাদ করবে?’

কথা হয় জামালপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আরিফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কিছুটা জিনিসপত্রের ওপর পড়েছে। তবে কেন এবং কী পরিমাণ মূল্য বেড়েছে সে বিষয়ে আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। কোথাও কোনো অসঙ্গতি পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।