চাঁপাই বিলে পদ্মফুল দেখতে মানুষের ভিড়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১০:৪০ এএম, ১৫ আগস্ট ২০২২

ফরিদপুরের চাঁপাই বিলের পদ্মফুল দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছে মানুষ। শত শত মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। দুপুর-বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরব থাকে এ বিল। ভ্রমণ পিয়াসুদের পছন্দের তালিকার প্রথমে রয়েছে চাঁপাই বিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিলের ভরা যৌবনে সৌন্দর্যের আভা ছড়াচ্ছে গোলাপি রঙের পদ্মফুল। বিলের সৌন্দর্য দেখার পাশাপাশি ছবি-ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করছেন মানুষ। তরে অতিরিক্ত মানুষের চাপ ও আগতদের ফুল ছেঁড়ায় বিলের কিছুটা সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলছে।

jagonews24

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের রনকাইল গ্রামে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করতে শুরু করে এ গ্রামে। কেউ বিলের পাড়ে, আবার কেউ বিলের পানিতে ছোট ছোট নৌকায় বিল-পদ্মফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। তবে মানুষের তুলনায় নৌকার সংখ্যা কম। তাই নৌকায় চড়তেও লাইন দিতে হয়।

স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ফকির মো. লুৎফর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, পদ্মফুল বর্ষায় ফোটে। আগের তুলনায় এবার মানুষের ভিড় বেশি। তবে অসচেতন মানুষ ফুল-পাতা ছিঁড়ে ফেলেন। এতে করে বিলের সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে।

jagonews24

সামাজিক সংগঠক ইকবাল মাহমুদ ইমন বলেন, ভ্রমণ প্রেমীদের আকর্ষণীয় স্থান এ চাঁপাই বিল। দিনদিন এখানে মানুষের ভিড় বাড়ছে। এ বিলে আগে পদ্মের পাশাপাশি শাপলাও ফুটতো। এবার হাজার হাজার পদ্মফুল ফুটেছে বিলটিতে।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মো. ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, বছরের অন্তত চার মাস বিলটিতে পদ্মফুল ফুটে সৌন্দর্য ছড়ায়। এ সময়ে ফুল যেন কেউ না তোলেন সেদিকে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি প্রয়োজন।

বোয়ালমারী থেকে বিলে ঘুরতে আসা শাহিনুজ্জামান খান বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে বিলে ঘুরতে এসেছি। নৌকার সিরিয়াল না পেয়ে বিলপাড় থেকে ফিরে এসেছি।

মির্জা প্রিন্স নামের আরেকজন জানান, লোকমুখে শুনে বিলে ঘুরতে এসেছি। পুরো বিকেলটা ভালোই কাটালাম। নৌকার চাহিদা বেশি। ঘণ্টায় জনপ্রতি ৫০ টাকা দিতে হয়।

jagonews24

ফরিদপুর জজ আদালতের আইনজীবী সেলিমুজ্জামান রুকু জাগো নিউজকে জানান, বন্ধু ও সহপাঠীদের সঙ্গে নৌকায় পুরো বিলটা ঘুরেছি। এমন সৌন্দর্য দেখার জন্য সবাইকে অন্তত একবার হলেও এ বিলে আসা উচিত। এখানে থাকার বা বসার কোনো ব্যবস্থা নেই।

এ বিষয়ে কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফকির মো. বেলায়েত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিদিনই বিলে মানুষের ভিড় বাড়ছে। এখানে যাতায়াত ব্যবস্থা খুব খারাপ ছিল। এখন রাস্তা পাকাকরণ পথচারীদের জন্য খাবার পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বসার সু-ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সৌন্দর্যবর্ধনের প্রক্রিয়া চলছে।

এন কে বি নয়ন/আরএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।