এক যুগ ধরে শিকলবন্দি মিলন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৬:৩৩ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০২২

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনদী ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের হাফেজ শরিফের ছেলে মিলন শরিফ। তার বর্তমান বয়স ১৫ বছর। এর মধ্যে ১২ বছর ধরেই শিকলবন্দি জীবনযাপন করছে মিলন।

মিলনের বাবা হাফেজ শরিফ পেশায় দিনমজুর। অন্যের জমিতে কাজ করে যা পান তা দিয়েই কোনোমতে চলে তাদের ছয় সদস্যের সংসার। ছেলের চিকিৎসা করানো তো দূরের কথা, এই অগ্নিমূল্যের বাজারে সংসারই ঠিকমতো চলে না। দিন যায় খেয়ে না খেয়ে। তাই ইচ্ছা থাকলেও অর্থের অভাবে চিকিৎসা না করিয়ে মিলনকে শিকলবন্দি করে রেখেছে তার পরিবার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জন্মের তিন বছরের মাথায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয় মিলন শরিফ। এরপর সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। এর কয়েক মাস পর তার কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবে চলাচলেও তার সমস্যা দেখা দেয়। টাকার অভাবে ভালো চিকিৎসা করাতে না পেরে পায়ে শিকল পরিয়ে রেখেছেন তার বাবা-মা। এরপর থেকে প্রায় এক যুগ ধরে এভাবেই শিকলবন্দি জীবনযাপন করছে মিলন।

jagonews24

ওই এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদ হোসেন বলেন, মিলন শরিফের বাবা একজন দিনমজুর। হতদরিদ্র একটি পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে মিলন শিকলবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছে।

মিলনের মা সুফিয়া বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ছােটবেলায় ওর নিউমোনিয়া হয়। ডাক্তার-কবিরাজ দিয়ে চিকিৎসা করেয়েছি। ভালো হয় না। টাকা-পয়সার অভাব, তাই এখন আর চেষ্টা করি না। ছেড়ে দিলে এদিক ওদিক চলে যায় বলে পায়ে শিকল পরিয়ে বেঁধে রেখেছি।’

মিলনের বাবা হাফেজ শরিফ জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে আমার সংসার। দুই ছেলে বেকার। তিন বছর বয়সে মিলনের নিউমােনিয়া হলে পাশের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে একাধিকবার চিকিৎসা করিয়েছি। কিছুদিন পর সে প্রতিবন্ধী ও পাগল হয়ে যায়। তারপরও চিকিৎসা করতে আমার প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়। ধার-দেনা করে চিকিৎসা করিয়েছি। তারপরও কিছুতে হয়নি।’

jagonews24

তিনি বলেন, ‘আমি অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালাই। মিলনের নামে একটি প্রতিবন্ধীর ভাতার কার্ড ছাড়া কিছুই নেই। রাতে ভাঙাচোরা ঘরে কোনোমতে থাকি। দিনেরবেলা রান্নাঘরের বাঁশের খুঁটির সঙ্গে তাকে শিকলবন্দি করে রাখি। এছাড়া যে আমার উপায় নেই।’

এ বিষয়ে কথা হয় যদুনদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাে. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, মিলনের নামে একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। তারপরও যদি তার চিকিৎসার জন্য কােনাে সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তাহলে সাধ্যমতো চেষ্টা করবো।’

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. তাছলিমা আকতার বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিনে গিয়ে তার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এন কে বি নয়ন/এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।