সাংবাদিককে গালি দেওয়া প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৮:৪৪ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০২২
প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক

সাংবাদিককে গালি দেওয়ার ঘটনায় শরীয়তপুরের ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আশিকুর রহমান বাদী হয়ে ডামুড্যা থানায় এ অভিযোগ দেন।

খোজ নিয়ে জানা যায়, রথি কান্ত মিস্ত্রী ওই স্কুলের কৃষিশিক্ষা ও স্কাউট বিষয়ক সহকারী শিক্ষক। তিনি স্কাউটিং প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১১ আগস্ট দুপুরে স্কাউটদের সাপ্তাহিক মিটিং ছিল। কোনো কারণ ছাড়াই রথি কান্ত সেই মিটিং বাতিল করে দেন। পরে গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে বলে এক ছাত্রীকে স্কুলের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। তারপর সেখানে ওই ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন রথি কান্ত মিস্ত্রী।

এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারকে গেলে তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে যৌন হয়রানির বিষয় জানতে ১৬ আগস্ট বিকেলে স্থানীয় সাংবাদিক আশিকুর রহমান হৃদয় ও শাহাদাৎ হোসেন শিক্ষক রথি কান্তর মোবাইল নম্বরে কল দিলে রিসিভ করেননি। তাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিষয়টি জানতে প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের কাছে যান ওই সাংবাদিকরা। কিন্তু বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে বলতে রাজি হননি প্রধান শিক্ষক। তাই সাংবাদিকরা চলে আসেন।

পরে রাত ৯টার দিকে সাংবাদিক আশিকুর রহমান হৃদয়ের মোবাইলে কল করেন প্রধান শিক্ষক। হৃদয় কল রিসিভ করার সঙ্গে সঙ্গে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন সুজিত কর্মকার। এছাড়া দুই সাংবাদিককে মারধরের হুমকিও দেন প্রধান শিক্ষক। এরপর তার এমন কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়

সাংবাদিক আশিকুর রহমান বলেন, আমরা জনগণের কথা গণমাধ্যমে প্রকাশ করি। তবে শিক্ষক হয়ে তিনি একজন মানুষের সঙ্গে এরকম ভাষায় কথা বলতে পারেন না। আমাকে ও আমার সহকর্মী শাহাদাত হোসেন হিরুকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। আমরা জীবন ঝুঁকিতে আছি। আমি ডামুড্যা থানায় অভিযোগ করেছি। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আমরা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাবো।

শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি অনল কুমার দে বলেন, একজন শিক্ষক জাতির মেরুদণ্ড বটে। তবে ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ভাষা মনে হলো মাস্তান ও মাফিয়াদের মতো। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। প্রশাসনের কাছে ওই শিক্ষকের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।

এ বিষয়ে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফ আহম্মেদ জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক আশিকুর রহমান থানায় এসে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দিয়ে গেছে। আমরা সঠিকভাবে তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষক হয়ে মানুষের সঙ্গে এ রকম ভাষায় কথা বলা উচিত হয়নি। সাংবাদিকদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যালয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করবো।

মো. ছগির হোসেন/এসজে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।