সার নিয়ে কারসাজির অভিযোগ ডিলারদের বিরুদ্ধে
ইউরিয়া সারের ব্যবহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে সারের দাম বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু ইউরিয়া সারের পাশাপাশি অন্য সারের দামও কেজিতে চার-পাঁচ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে ১ আগস্ট থেকে ইউরিয়া সারের দাম কেজিতে ছয় টাকা বাড়তি কার্যকর হয়। এই সুযোগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন এলাকায় ১৫ টাকার পটাশ ১৭ টাকায়, ১৬ টাকার ফসফেট বা ডিএপি বিক্রি হচ্ছে ২২ টাকায়। সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য দিয়ে ডিলারদের থেকে সার কিনতে হচ্ছে এমনই অভিযোগ করছেন খুচরা সার ব্যবসায়ীরা।
বুধবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বারদী বাজারের বিভিন্ন সারের দোকান ঘুরে এমনই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। সারের দাম বৃদ্ধির ফলে হিমশিম খেতে হচ্ছে খুচরা ব্যবসায়ীদের। ফলে অনেক ব্যবসায়ী সার বিক্রি ছেড়ে অন্য ব্যবসার চেষ্টা করছেন।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একদিকে সারের দাম বৃদ্ধি অন্যদিকে কৃষিজমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাওয়ায় এই ব্যবসায় অবস্থা খুবই শোচনীয়। দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাই অনেক লোকসান হওয়া সত্ত্বেও এই ব্যবসা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন তারা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ৫০ কেজি ইউরিয়া সারের বস্তা ডিলারদের কাছ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। যেখানে সরকার ঠিক করেছিল ১ হাজার টাকা করে। অর্থাৎ সরকার প্রতি কেজি ইউরিয়া সার ক্রেতাদের কাছে ২২ টাকা করে বিক্রি করতে বললেও তাদের ডিলারদের কাছ থেকেই ২৪ টাকা করে কিনতে হচ্ছে। এছাড়া ডিএপি সার এবং এমওপি সারও সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে তার চেয়ে বেশি দামে ডিলারদের থেকে কিনতে হচ্ছে। তাছাড়া টিএসপি সার আগে ৫০ কেজির বস্তা ১ হাজার ৪০০ টাকা ছিল, তা এখন ১ হাজার ৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। অর্থাৎ কেজিতে দুই টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, আমাদের বেশি দামে সার কিনতে হলেও সরকারের নির্ধারিত মূল্যের ক্যাশ মেমো দেওয়া হচ্ছে। ক্রেতাদের কাছে সার বিক্রি করতে গেলেও আমাদের একই সিস্টেম অবলম্বন করতে হয়। তাই সরকার ২২ টাকা দরে ইউরিয়া সার বিক্রি করতে বললেও আমরা তা ২৬ টাকায় বিক্রি করছি। কিন্তু আমরা ক্যাশমেমোতে ২২ টাকাই দেখাই।

কথা হয় মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্সের মালিক মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, ইউরিয়া সারের দাম বৃদ্ধির ফলে আমাদের বেচাকেনা অনেকটাই কমে গেছে। আগে যে ক্রেতা ৫ কেজি সার নিতেন দাম বাড়ার ফলে তিনি এখন সেখানে ৩ কেজি সার নিচ্ছেন। তার ওপর বছরের এই সময়টায় সারের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকে। তাই আমাদের সারাদিন এখন অলস সময় কাটাতে হচ্ছে।
৩৬ বছর ধরে সারের ব্যবসা করে আসছেন মেসার্স জব্বার ট্রেডার্সের মালিক আব্দুল জব্বার। তিনি অনেকটা আক্ষেপের সুরে জানান, এমনিতেই সব জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি। তার ওপর সারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে। বর্তমানে ব্যবসার যে পরিস্থিতি তা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা অনেক কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মেসার্স ভূইয়া ট্রেডার্সের মালিক ও বারদী বাজারের ডিলার মো. নাসির উদ্দিন ভূইয়া জানান, আমরা সরকারের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী সার বিক্রি করে থাকি। বেশি দামে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রি করি, এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আমার কাছে সার বিক্রির সব ক্যাশ মেমো থাকে, তা দেখলেই বুঝতে পারবেন আমি বেশি দামে সার বিক্রি করি কিনা।

জানতে চাইলে সোনারগাঁ উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশীষ কুমার শীল জানান, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আবু নাসের ভালো বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আবু নাসের জানান, সরকারের নির্ধারিত মূল্যের থেকে বেশি দামে সার বিক্রি করলে আমরা প্রমাণসাপেক্ষে ডিলারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। আর সরকার শুধু ইউরিয়া সারের দাম বৃদ্ধি করেছে। যদি কোনো ব্যবসায়ী অন্য সারগুলোর দাম বৃদ্ধি করে বিক্রি করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাশেদুল ইসলাম রাজু/এফএ/এএসএম