গুলিতে নিহত
৪ দিন পর মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ
দিনাজপুর সদর উপজেলায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত স্কুলছাত্র মিনহাজুল ইসলাম মিনাজের মরদেহ চার দিন পর ফেরত পেলেন স্বজনরা।
সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাদ মাগরিব জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সীমান্তের ৩১৪/৭ এস পিলারের কাছে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ ফেরত দেওয়া হয়।
পতাকা বৈঠকে দাইনুর বিপিওর নায়েক সুবেদার আক্তার হোসেন, কোম্পানি কমান্ডার আনিস হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভিরুল ইসলাম, আস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুবক্কর সিদ্দিক, ইউপি সদস্য মাজেদুর রহমান ও নিহতের পিতা জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অপর দিকে ভারতের পশ্চিম দিনাজপুরের ভাদড়া হরিপুর সীমান্ত ফাঁড়ির বিএসএফ কর্মকর্তা ঈসা, গঙ্গারামপুর থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পল্লব কুমারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মরদেহ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন আস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুবক্কর সিদ্দিক ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাজেদুর রহমান।
তারা জানান, সকালে মরদেহ ফেরত দেওয়া হবে সংবাদ পেয়ে কবর খনন করা হয়। বিকেলে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গোসল শেষে বাদ মাগরিব জানাজা হয়। পরে পারিবারিক গোরস্থানে তার দাফন করা হয়।
বিজিবি দাইনুর সীমান্ত ফাঁড়ির কমান্ডার আক্তার হোসেনের কাছে মরদেহ ফেরত দেওয়া এবং নিখোঁজদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলেননি।
তবে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মাওলা জাগো নিউজকে বলেন, বিএসএফ ও বিজিবির উপস্থিতিতে নিহতের মরদেহ আমাদের কাছে (পুলিশের কাছে) হস্তান্তর করা হয়েছে। যেহেতু ওই দেশে ময়নাতদন্ত হয়েছে, তাই এ দেশে তা আর প্রয়োজন হবে না। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
৭ সেপ্টেম্বর দিনগত রাত ১১টার দিকে পাঁচজন শুটকি ব্যবসায়ী দাইনুর বিওপি ৩১৫ নাম্বার মেইন পিলারের সীমান্তের কাছে গেলে গুলি চালায় বিএসএফের সদস্যরা। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় স্কুলছাত্র মিনহাজুল ইসলাম মিনাজ। নিখোঁজ রয়েছেন দুই বাংলাদেশি একই ইউনিয়নের খানপুর এলাকার লতিফুরের ছেলে এমদাদুল (২৮) ও সালমানের ছেলে সাগর (২০)।
এমদাদুল হক মিলন/এসজে/এএসএম