১০ গ্রামের দুঃখ একটি সড়ক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৯:২৩ এএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

খানাখন্দে ভরা পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বনগ্রামহাট-কুমিরগাড়ি সংযোগ সড়কটি। নির্মাণের ২০ বছর পরও সংস্কার না করায় সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে করে ওই এলাকার ১০ গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় ২০ বছর আগে এলজিইডির অর্থায়নে সড়কটি নির্মিত হয়। এ সড়কটির আরও দুই কিলোমিটার নির্মাণ হলে সেটি সুজানগর উপজেলার সঙ্গে সংযুক্ত হবে। তবে সড়কটি বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানেন না স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

স্থানীয়রা জানান, সংস্কার না করায় সড়কটির প্রায় সব স্থানে কার্পেটিং উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ইট-বালি আলাদা হয়ে মাটি দেখা যাচ্ছে। এর ফলে কুমিরগাড়ি, বিশ্বাসপাড়া, দাসপাড়া, দীঘলা পাড়া, ফকিরপাড়া, মধ্যপাড়া, পদ্মবিলা, মোল্লাপাড়া, দহেরপাড়া, কামারদুলিয়া গ্রামের ২০ হাজার মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে হেলেদুলে চলছে ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন।

jagonews24

পদ্মবিলা গ্রামের বাসিন্দা হারুন অর রশীদ হারুন জানান, বাড়িতে ফসল আনা নেওয়া করতে কৃষকদের খুব কষ্ট হয়। হাটে আনার জন্য ভ্যান পেতে বেগ পেতে হয়। এ রাস্তায় ভ্যান- অটোবাইক উল্টে যায় বলে চালকরা আসতে চান না।

ভ্যানচালক আবুল হাশেম বলেন, কী বলব দুঃখের কথা। দেশে বহু রাস্তা হল। কিন্তু বনগ্রাম- কুমিরগাড়ি রাস্তাটি হলো না। ভ্যান নিয়ে ঠিকমত মালামাল পরিবহন করতে পারি না। ভ্যান না চালালে পেটে ভাত জোটে না।

অটোবাইকচালক জয়দর আলী জানান, অনেক কষ্ট করে গাড়ি কিনেছি। কিন্তু রাস্তার জন্য গাড়িটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঘনঘন গাড়ি নষ্ট হওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা।

পদ্মবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম জানান, এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এ গ্রামের অনেক ছাত্র-ছাত্রী মিয়াপুর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিয়াপুর দাখিল মাদরাসা, বনগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। শিক্ষকসহ ছাত্র-ছাত্রীদের চলাচলে সীমাহীন কষ্ট হয়।

এ বিষয়ে আর-আতাইকুলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহীন খান জানান, রাস্তাটি সংস্কারের দাবি করতে করতে হয়রান। এটি সংস্কারের জন্য এখন জনগণ নিয়ে রাস্তায় নেমে আসা ছাড়া পথ নেই।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির সাঁথিয়া উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক জানান, রাস্তাটির এমন বেহাল অবস্থার কথা তার জানা নেই। তবে তিনি খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

আমিন ইসলাম জুয়েল/আরএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।