পাবনায় বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, বেশিরভাগই রূপপুর প্রকল্পের কর্মচারী

আমিন ইসলাম জুয়েল আমিন ইসলাম জুয়েল , জেলা প্রতিনিধি ,পাবনা
প্রকাশিত: ০৭:০৩ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

পাবনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। চলতি মাসে ৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন চারজন। এছাড়া ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রেফার করা রোকন হোসেন (২১) নামের এক রোগী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে মারা গেছেন।

পাবনা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে হঠাৎ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি বেড়েছে। রোগীদের বেশিরভাগই রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কর্মচারী। বাকিরা চাটমোহর, সাঁথিয়া ও আটঘরিয়া অঞ্চল থেকে আসছেন।

সদর হাসপাতালে ভর্তি কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথমদিকে তারা বিষয়টি টের পাননি। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ না হলে সদর হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে গিয়ে পরীক্ষা করান। পরীক্ষায় ধরা পড়ে তারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু আক্রান্ত রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের এক কর্মচারী জানান, তাদের কর্মস্থলে প্রচুর মশা। তিনি দিনের বেলায় মশার কামড় খেয়েছেন। পরে জ্বর হওয়ার পর জেনেছেন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই দু-একজন করে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে আসতে থাকেন। ৯ সেপ্টেম্বরের পর থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে আলাদা ইউনিট খোলা হয়। এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত রোগী এ ইউনিট থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। অনেককে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এসব রোগীর সবাই রূপপুর প্রকল্পের নির্মাণ শ্রমিক।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেস্ট রোসেম কোম্পানির শ্রমিক জীবন হোসেন (২৩) জানান, গত ১৫ দিনে
ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়ে গেছে।

ঈশ্বরদী উপজেলার রেজানগর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তার ভাতিজা শিহাবসহ তিন আত্মীয় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। তারা সবাই চিকিৎসাধীন।

রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস বলেন, কয়েকদিন আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফোন করে জানানো হয়, রূপপুর প্রকল্পের চার পাঁচজন শ্রমিক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এরই মধ্যে পাবনা সিভিল সার্জন অফিস থেকে একটি টিম ডেঙ্গুর লাভা শনাক্তে রূপপুর গ্রিন সিটি এলাকা পরিদর্শন করে গেছে।

রূপপুর প্রকল্পের সাইট ডিরেক্টর প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গুতে যেন শ্রমিকরা আক্রান্ত না হয় সেজন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলমান।পাশাপাশি কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শফিকুল ইসলাম শামীম জানান, প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন। যাদের হাসপাতালে ভর্তি প্রয়োজন তাদের ভর্তি করা হচ্ছে। রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক শায়লা জানান, তারা সাধ্যমতো চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। পাবনা জেনারেল হাসপাতালে এ পর্যন্ত ভর্তি কোনো রোগী মারা যায়নি বলেও তিনি জানান ।

এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।