ঈশ্বরদীতে আগাম শিমের দাম কম, হতাশ চাষিরা
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার শিম চাষিরা প্রায় ১০ বছর ধরে আগাম জাতের শিমের আবাদ করে আসছেন। কিন্তু এবার সে আশায় গুড়েবালি। বিভিন্ন সংকটে খরচ বেশি হলেও ফলন তুলনামূলক কম হয়েছে। আবার পাইকারি বাজারে শিমের দাম হঠাৎ কমে গেছে। দুদিনের ব্যবধানে ১২০ টাকা কেজির শিম এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকায়। হঠাৎ দাম পড়ে যাওয়ায় হতাশ চাষিরা।
রোববার (২ অক্টোবর) সরেজমিনে উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ক্ষেতজুড়ে শুধু শিম আর শিম। আগাম শিমের পাশাপাশি চাষিরা শীতকালীন শিমের আবাদও করেছেন। তাই ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে শুধু শিমের সমারোহ।
কৃষকরা জানান, প্রতি বছর আষাঢ়ের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে আগাম শিমের আবাদ শুরু হয়। ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি থেকেই ফলন পাওয়া যায়। এবার আষাঢ়-শ্রাবণে প্রচণ্ড খরার কারণে শিম গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষেতের বহু শিম গাছ মরে গেছে। বেঁচে যাওয়া গাছগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। পরে বৃষ্টিপাতে এসব শিম গাছ সবল হয়ে উঠলেও ফলনে কিছুটা দেরি হয়েছে। লাভের আশায় বেশি টাকা খরচ করে আগাম শিম আবাদ করলেও এবার চাষিদের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
রামেশ্বাপুর গ্রামের শিম চাষি শাকিল হোসেন বলেন, ভাদ্র থেকে আশ্বিন মাসের মধ্যে চাষিরা প্রতি বিঘায় ৩০-৪০ হাজার টাকার আগাম শিম বিক্রি করেন। এবার ১০ হাজার টাকার শিমও বিক্রি হয়নি।

আটঘরিয়া গ্রামের শিম চাষি আবুল কালাম বলেন, খরার কারণে আগাম শিমের আবাদ করে খুব বেশি লাভের সম্ভাবনা নেই। এবার সার, কীটনাশক ও বীজের দাম বেশি ছিল। পাশাপাশি খরায় শিম গাছের ক্ষতি হয়েছে। এবার আগাম শিমের ফলন অন্যবারের তুলনায় কম। একই সঙ্গে শিমের বাজারদর হঠাৎ কমে যাওয়ায় কৃষকদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
মুলাডুলি সবজি আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক জাগো নিউজকে বলেন, আশ্বিন মাসের এ সময়ে প্রতি বছর দু-আড়াই হাজার মণ পর্যন্ত শিম আড়তে বেচাকেনা হয়। বর্তমানে বাজারে শিম উঠছে ৫০০ থেকে ৬০০ মণ। দু-তিনদিন হলো বাজার জমে ওঠার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রোববার প্রতি কেজি শিম বিক্রি হয় ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। অথচ বুধ ও বৃহস্পতিবার শিম বিক্রি হয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার জাগো নিউজকে বলেন, প্রচণ্ড খরায় প্রথমে শিমগাছের কিছুটা ক্ষতি হলেও পরে বৃষ্টিপাতের ফলে আবাদ ভালো হয়েছে। শিম গাছে ফুল ও ফলন খুবই ভালো মনে হয়েছে। আশাকরি সামনের দিনগুলোতে শিমের ফলন আরও বাড়বে।
শিমের হঠাৎ বাজারদর কমে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি আমিও চাষিদের মাধ্যমে শুনেছি। হয়তো সামনে বাড়বে।
এসজে/জেআইএম