ঘাস চাষে যুবকের মাসিক আয় লাখ টাকা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁদপুর
প্রকাশিত: ০৪:৪২ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০২২

গবাদিপশুর প্রধান খাবার ঘাস। পাওয়া যায় দেশের আনাচে-কানাচে। তবে এই ঘাস চাষ করেই মাসে এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করছেন চাঁদপুরের প্রবাসফেরত এক যুবক। ব্যতিক্রমী প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা এই ঘাসের নাম ‘লন কার্পেট’ ঘাস।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই ঘাস বিক্রি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এতে অর্ধশতাধিক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এরই মধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন রাব্বি নামের ওই যুবক।

Grass-(6)

তার এমন সাফল্যে অনেক তরুণ উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। নিজেরাও শুরু করতে চান লন কার্পেট ঘাসের চাষ। কৃষি বিভাগ বলছে, উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে এই ঘাস চাষ ব্যাপক লাভজনক।

চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার লোহারপোল এলাকার বাসিন্দা আবু গাজীর ছেলে গোলাম রাব্বি। জীবিকার টানে বাহরাইনে গিয়ে সাত বছর লন কার্পেট ঘাস উৎপাদনে কাজ করেন। দীর্ঘদিন কাজের সুবাদে এই ঘাসের প্রক্রিয়াজাত ভালোভাবেই আয়ত্ত করেন তিনি। দুই বছর আগে দেশে এসে ৪০ শতাংশ পরিত্যক্ত জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন। বর্তমানে ওই এলাকায় পৃথক চারটি স্থানে প্রায় পাঁচ একর জমিতে এই ঘাস চাষ করছেন তিনি। তার প্রকল্পে কাজ করছেন অর্ধশতাধিক লোক।

কথা হয় উদ্যোক্তা গোলাম রাব্বির সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘দীর্ঘ সাত বছর বাহরাইনে কার্পেট ঘাসের কাজে কর্মরত ছিলাম। সেখানে সৌন্দর্যবর্ধন এই সবুজ কার্পেট ঘাস ব্যাপক ব্যবহার হতো। সেখান থেকে দুই বছর আগে দেশে ফিরে আসি। পরে ঢাকা থেকে এই ঘাসের বীজ সংগ্রহ করে নিজ এলাকায় চাষ শুরু করি।’

jagonews24

এটি মূলত মেক্সিকান-বারমুডা গ্রাস। তবে ‘লন কার্পেট’ ঘাস হিসেবেই বেশি পরিচিত। লাভজনক হওয়ায় এই ঘাস এখন অনলাইনে বসেই সারাদেশে বিক্রি করছেন রাব্বি।

গোলাম রাব্বির ঘাস প্রকল্পে কাজ করা হোসেন বেপারী, আবুল গাজী, মাসুদসহ বেশ কয়েকজন জানান, প্রথমে জমিতে পলি বিছিয়ে সেখানে জৈব সারসহ মাটি ফেলা হয়। এরপর সংরক্ষণ করা লন ঘাস সেখানে রোপণ করা হয়। প্রতিদিন পানি এবং সার ছিটানো হয়। পাঁচ মাস পর লন কার্পেট ঘাস বাণিজ্যিকভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো যায়।

jagonews24

বর্তমানে ৯০ হাজার বর্গফুট জমিতে এই ঘাস চাষ করছেন গোলাম রাব্বি। ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতে নিয়ে তার এ কাজের যাত্রা শুরু। কার্পেট জাতীয় এ ঘাসের প্রতি বর্গফুটের দাম ৮০ টাকা। এই ঘাস বিক্রি করে রাব্বির মাসিক আয় এক থেকে দেড় লাখ টাকা।

জয়নাল, কাদের খানসহ কয়েকজন কর্মচারী বলেন, অন্য ব্যবসায় থাকলে এখন এলাকার অনেকেই কাজ করছেন রাব্বির সঙ্গে। নিয়মিত হাজিরায় কাজ করে পরিবার নিয়ে ভালোই দিন কাটছে তাদের। তারা জানান, আগে তাদের কেউ ছিলেন কাঁচামালের ব্যবসায়ী, কেউ দিনমজুর আবার কেউ রিকশাচালক। তবে এখন নির্দিষ্ট স্থানে কাজ পেয়ে খুশি তারা।

jagonews24

রাব্বির এই লন কার্পেট ঘাস বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, চট্টগ্রাম, সিলেট, গাজীপুর, নরসিংদী, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়েছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আয়েশা আক্তার জানান, লন কার্পেট ঘাস চাষে পোকা বা রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ নেই। বাণিজ্যিকভাবে এ ঘাস চাষ লাভজনক।

এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।