পলিনেট হাউজে স্বপ্ন বুনছেন ফজলু
ফজলুল হক (৩৭) একজন পেশাদার কৃষক। বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌর এলাকার চর ঘাটুনি গ্রামে। বর্তমানে তিনি কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। কয়েক বছর যাবত তিন বিঘা জমিতে লাগিয়েছিলেন টমেটো, আপেল কুল ও পেয়ারার চারা।
কিন্তু গাছ পরিচর্যায় তেমন অভিজ্ঞতা না থাকায় আশানুরূপ সফলতা পায়নি। যার ফলে এ বছর আধুনিক প্রযুক্তি রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় ২৫ শতক জমির ওপর স্থাপন করেছেন পলিনেট হাউস।
সরেজমিনে দেখা যায়, এতে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত মানের পলি ওয়ালপেপার। লোহার অ্যাঙ্গেলের ওপর পলিপেপার দিয়ে তিনটি শেডে এ পলিনেট হাউস নির্মাণ করা হয়। যার ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। স্থায়িত্বকাল ধরা হয়েছে ২০ বছর। এ পদ্ধতিতে প্রথম বছরেই তিনি সফলতা আশা করছেন। এবার আবাদ করেছেন গ্রীষ্মকালীন সবজি। এতে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

পেয়ারা ও আপেল কুল চাষে তেমন সফলতা না পাওয়ায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুর্বনা ইসলাম সুমী উচ্চ ফলনশীল আবাদের জন্য পলিনেট হাউজ স্থাপনের প্রস্তাব করেন। এ প্রস্তাবে প্রথমে আকাশ থেকে পড়লেও পরে রাজি হন তিনি।
ফজলুল হক জাগো নিউজকে জানান, সরকারিভাবে কৃষি বিভাগ থেকে উচ্চমূল্য ফসল আবাদের প্রশিক্ষণ নিয়েছি। পলিনেট হাউসে গাজর, হলুদ তরমুজ, টমেটো ও ক্যাপসিকাম রোপণ করি। তিনি আশা করছেন এতে ভালো ফলাফল পাবেন। পলিনেট হাউজে তার পরিচর্যা খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকার মতো।

পলিনেট হাউস সম্পর্কে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী জাগো নিউজকে জানান, কৃষকরা চাইলে অল্প খরচে পলিনেট হাউস স্থাপন করে শীতকালীন সবজি গ্রীষ্মকালে উৎপাদন করতে পারে। তেমনি গ্রীষ্মকালের সবজিও শীতে উৎপাদন করা যায়।
এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বাবলু কুমার সূত্রধর জাগো নিউজকে বলেন, পলিনেট হাউস প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারী বৃষ্টি, তীব্র তাপদাহ, কীটপতঙ্গ, ভাইরাসজনিত রোগ ইত্যাদির মতো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিরাপদ থাকবে শাক-সবজি এবং ফলমূলসহ সব ধরনের কৃষি উৎপাদন।
এম এ মালেক/আরএইচ/জেআইএম