ডিভাইস অকেজো, আবহাওয়ার তথ্য পাচ্ছেন না ঈশ্বরদীর কৃষকরা
প্রান্তিক কৃষকদের কৃষি আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাত ইউনিয়নে স্থাপন করা স্বয়ংক্রিয় রেইনগজ মিটারসহ সব ডিভাইস এখন অকেজো। কোনো ইউনিয়নেই রেইনগজ মিটার, সোলার প্যানেল এবং তথ্য বোর্ডের কার্যক্রম সচল নেই।
সরেজমিনে সলিমপুর ও দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ঘুরে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের ছাদে যে রেইনগজ মিটার ও সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছিল। সেগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দার দেওয়ালে লাগানো তথ্য বোর্ডে ধুলাবালির আস্তর পড়েছে। বছর ধরে যে এ আবহাওয়া তথ্য বোর্ডে কেউ হাত দেননি তা বোর্ডের দিকে তাকালেই স্পষ্ট বোঝা যায়।
জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষক সিদ্দিকুর রহমান ময়েজ ওরফে কুল ময়েজ জাগো নিউজকে বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষকদের আবহাওয়ার তথ্য জানাতে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছিল তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকরা যদি সাতদিন আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানতে পারে তাহলে তারা খুবই উপকৃত হতো। সরকারের কাছে তৃণমূল কৃষকদের পক্ষ থেকে ঈশ্বরদীর সাত ইউনিয়নসহ প্রতিটি ইউনিয়নের কৃষি আবহাওয়া তথ্য কেন্দ্রগুলো চালুর রাখার দাবি জানাচ্ছি।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত আরেক কৃষক আব্দুল বারী ওরফে কপি বারী জাগো নিউজকে বলেন, কৃষকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদে আবহাওয়া তথ্য প্রকল্পের আওতায় ডিসপ্লেবোর্ড ও রেইনগজ মিটার স্থাপন করা হয়েছিল। তা দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। এজন্য কৃষকরা আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাচ্ছে না। এতে বহু কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবহাওয়া পূর্বাভাসের ডিভাইসগুলো মেরামত করে দ্রুত চালু করা হলে কৃষকরা উপকৃত হতো।
সলিমপুর ইউনিয়নের শেখেরদাইড় গ্রামের কৃষক আকবর হোসেন দেওয়ান বলেন, আমরা শুনেছি কৃষকদের আবহাওয়ার আগাম তথ্য দেওয়ার জন্য সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষি আবহাওয়া তথ্য প্রকল্পের আওতায় ডিসপ্লেবোর্ড ও রেইনগজ মিটার স্থাপন করেছে। কিন্তু তৃণমূলের সাধারণ কৃষকদের কাছে এ সুবিধা এখনো পৌঁছেনি। কৃষকরা আবহাওয়ার তথ্য সঠিক সময় পেলে ফসলকে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারতো।
দাশুড়িয়া ইউনিয়নের কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে এ ইউনিয়নের রেইনগজ মিটার অকেজো। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কৃষি কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। আবহাওয়া তথ্যের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে এনালগ ডিসপ্লেবোর্ড দেওয়া হয়েছিল। এটির পরিবর্তে ডিজিটাল ডিসপ্লেবোর্ড বসানো হলে কৃষকদের আবহাওয়ার তথ্য দিতে বেশি সুবিধা হবে।

সলিমপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের আবহাওয়ার তথ্য দেওয়ার রেইনগজ মিটারসহ সব ডিভাইস সংস্কারের অভাবে অকেজো হয়ে পড়েছে। এ বিষয়টি কৃষি কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। ডিভাইস অকেজো হলেও আমরা আবহাওয়া অফিস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে কৃষকদের জানানোর চেষ্টা করি। তাছাড়া কোনো কৃষক ফোনে আমাদের কাছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে জানতে চাইলে আমরা তা সংগ্রহ করে জানিয়ে দিই।
দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বকুল সরদার জাগো নিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রেইনগেজ ও আবহাওয়া তথ্য বোর্ড বিকল। কৃষকদের আবহাওয়া দেওয়ার যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় এ কার্যক্রম এখান বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার বলেন, কৃষি আবহাওয়া তথ্য উন্নতকরণ প্রকল্পের আওতায় ডিসপ্লেবোর্ড ও রেইনগজ মিটার স্থাপন করা হয়েছে। প্রথমে এগুলো ভালোই ছিল। বর্তমানে সব ইউনিয়নে অকেজো অবস্থায় আছে। তথ্য উন্নতিকরণ প্রকল্পের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। শিগগির এগুলো মেরামত করে পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করা হবে।
এমআরআর/জেআইএম