ডা. দুলালের তৈরি অ্যাপে পরামর্শ নিচ্ছেন ডায়াবেটিস রোগীরা
ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. দুলাল কৃষ্ণ রায়। এলাকায় গরীবের বন্ধু হিসেবে বেশ পরিচিত। কারণ রোগীদের কোনো পরামর্শ বা ব্যবস্থাপত্রের ফি নেন না তিনি। তাদের জন্য তৈরি করেছেন ডিজিটাল অ্যাপও। যেখানে প্রযুক্তির সাহায্যে ঘরে বসেই শরীরের অবস্থা জানতে পারছেন যে কেউ। এছাড়া এ অ্যাপের মাধ্যমে ভিডিও কল করে চিকিৎসকের পরামর্শও নিতে পারছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ডা. দুলাল রায়। ডায়াবেটিস অ্যান্ড ফুট কেয়ার সেন্টার নামের একটি প্রতিষ্ঠানও দিয়েছেন তিনি। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একটি ছোট ল্যাবও স্থাপন করেছেন। যেখানে গরীব রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ৩০-৪০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়। ডায়াবেটিস রোগীদের চলাফেরা, ডায়াবেটিস প্রাদুর্ভাব ও প্রতিরোধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণও দেন।
এ সেন্টারে ডা. দুলাল সপ্তাহের রোববার ও বৃহস্পতিবার বসেন। এ সময় ৫০০-৭০০ রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন তিনি। বাকি পাঁচদিনের মধ্যে দুদিন বসেন পৌর শহরের নিজ বাড়িতে। আর তিন দিন বসেন বেসরকারি একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।
ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে ডা. দুলাল রায়ের প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জানা যায়, এখানে নীলফামারী, পঞ্চগড় জেলা থেকে এবং দিনাজপুরের বীরগঞ্জ, খানসামা, কাহারোল উপজেলা থেকে রোগীর সমাগম হয়। শুধুমাত্র রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ফি নেওয়া হয়। গরীবদের অনেক সময় বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন রোগীরা।
বীরগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ এলাকার নির্মলা দাস। বয়স এখন প্রায় ৬০-এর কোঠায়। ডায়াবেটিস রোগে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন অনেক আগেই। চিকিৎসা নিতেন আগে যেতেন দিনাজপুর পৌর শহরে। এখন তিনি হাতের কাছেই পেয়েছেন ডা. দুলাল রায়কে।

কাহারোল থেকে আনিসুর রহমান বলেন, ‘ডাক্তার দুলাল রায়ের কাছে পাঁচ-ছয় বছর ধরে চিকিৎসা নিচ্ছি। অনেক ভালো চিকিৎসা দেন তিনি। এখানে তো তিনি বিনামূল্যে চিকিৎসা দেন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা কম খরচেই হয়। তিনি গরীবের ডাক্তার।’
বীরগঞ্জ উপজেলার মরিচা গ্রামের ওসমান গণি বলেন, ‘দুলাল রায় ডাক্তারের কাছে এসেছি। আজকেই প্রথম এলাম। তিনি প্রথমে ক্লাসের মতো করে অনেক পরামর্শ দিলেন।’
ডা. দুলাল রায়ের মতে, ডায়াবেটিস সনাতন একটি রোগ হলেও প্রযুক্তির সাহায্যে ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবা অ্যাপ হেলথএইডের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তির সাহায্যে সহজেই চিকিৎসা ও শরীরের অবস্থা জানতে পারবেন ডায়াবেটিস রোগীরা। এছাড়া এ অ্যাপের মাধ্যমে ভিডিও কল করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারবেন।
তিনি বলেন, দেশ-বিদেশ যেখানেই থাকি না কেন ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবা অ্যাপের মাধ্যমে এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে রোগীদের ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা দিতে পারি। সব প্রযুক্তি যুক্ত করেছি, যেন রোগীদের চিকিৎসা সেবা পেতে কোনো কষ্ট না হয়।’
দুলাল রায় আরও বলেন, ‘ডায়াবেটিস এমন রোগ যা কখনোই নির্মূল সম্ভব না, তবে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। যারা একবার এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে তাদের দুরবস্থা আমি দেখেছি। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে তারা দুরবস্থার মধ্যে পড়ে যায়। সারা জীবনটা তাদের কাছে অন্য রকম হয়ে যায়।
‘আমি বীরগঞ্জেরই অজপাড়া গাঁয়ের মানুষ। বিগত কয়েক বছর থেকেই ডায়াবেটিস রোগীদের কষ্ট অনুধাবন করেছি। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই আমি পরামর্শ ফি নেই না।’ যোগ করেন তিনি।
দুলাল রায় বলেন, দেশে এখনো প্রায় এক কোটিরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত আছেন। আর এক কোটি মানুষ জানেই না যে তারা আক্রান্ত। অর্থাৎ অজান্তেই এ রোগ বহন করছেন। যে হারে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, এখনই যদি আমরা মানুষকে সচেতন করতে না পারি তবে জাতীয় অর্থনীতিতে একটি বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। তাই সাধ্যমত ব্যক্তিদের সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছি।
এসজে/এএসএম