অধিগ্রহণ জটিলতায় তিন বছর ধরে বন্ধ সড়কের কাজ, দুর্ভোগ চরমে

আমিন ইসলাম জুয়েল আমিন ইসলাম জুয়েল , জেলা প্রতিনিধি ,পাবনা
প্রকাশিত: ০৫:২৬ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০২২
কালভার্ট নির্মাণ হলেও বন্ধ আছে সংযোগ সড়কের কাজ

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় তিন বছরেও বাইপাস সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হয়নি। জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে কাজ। ফলে ভাঙাচোরা আর কাঁচা রাস্তায় চলতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পথচারী, যাত্রী ও গাড়ি চালকরা। জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হলে খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯ সালের জুলাইয়ে গাগড়াখালী-সোনাতলা-সাঁথিয়া বাজার বাইপাস সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়। ২০২০ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে আট কিলোমিটার সড়কের মাত্র চার কিলোমিটার সংস্কার হয়েছে। বাকি চার কিলোমিটার সড়ক এখনো হয়নি। ওই সড়কের একটি কালভার্ট নির্মাণ করলেও হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে যানবাহন চলাচল বিঘ্ন ঘটছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) পাবনা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়াই ওই সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২০ কোটি টাকা। কাজটি পায় ঢাকার এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তারা আগের অপ্রশস্ত সড়কের পাশে মাটি ফেলাসহ কয়েকটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু করে। কিছু অংশ পাকা করার পাশাপাশি সড়কের বর্ধিত অংশেরও কাজ শুরু হয়। কিন্তু কিছুটা কাজ হওয়ার পরই তা বন্ধ হয়ে যায়।

অধিগ্রহণ জটিলতায় তিন বছর ধরে বন্ধ সড়কের কাজ, দুর্ভোগ চরমে

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘ সময় সংস্কার কাজ বন্ধ থাকায় সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অল্প কিছু অংশ পাকা হলেও বেশিরভাগ ভাঙাচোরা আর খানাখন্দে ভরে গেছে। ফলে রিকশা ও ভ্যানও ঠিকমতো চলতে পারে না। এছাড়া পাটগাড়ি গ্রামে কালভার্ট নির্মাণ করলেও সংযোগ সড়ক করা হয়নি। ফলে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আগে মাটির রাস্তা থাকায় কোনোমতে হাঁটাচলা যেত। কিন্তু এখন সড়কের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করায় ও মাঝখানে কালভার্ট তৈরি করে রাখায় চলাচল করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টি হলে যাতায়াতের আর উপায় থাকে না।

পাটগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ সড়ক নিয়্যা আমরা ম্যালা স্বপ্ন দেখছিল্যাম। কিন্তু সড়কের কাজ বন্ধ হওয়ায় আমরা বন্দি হয়া গেছি। কাজ কবে শুরু বা শেষ হবি তা কেউই কবার পারে না।’

গাগড়াখালী গ্রামের ইউনুছ আলী মোল্লা বলেন, ‘গাগড়াখালী থেকে ফেচুয়ান চলাফেরায় সমস্যা হচ্ছে। জমি থেকে ফসল বাড়ি পর্যন্ত পরিবহন করা যায় না। এমনকি ছেচানিয়া বাজার বা সোনাতলা বাজারে যেতেও সমস্যা হচ্ছে।’

অধিগ্রহণ জটিলতায় তিন বছর ধরে বন্ধ সড়কের কাজ, দুর্ভোগ চরমে

ভ্যানচালক মালেক সর্দার বলেন, ‘ভাঙাচোরা রাস্তা। মাঝের রাস্তা সংস্কার না করেই রেখে গেছে। রাস্তা অধিগ্রহণ করার কথা। তা হয়নি। রাস্তা সম্পন্ন না হওয়ায় ভ্যানগাড়ি নষ্ট হয়ে যায়।’

ভ্যানচালক আবুল কালাম বলেন, ‘রাস্তা খুব খারাপ, ভ্যান চালানো যাচ্ছে না। গাড়ি চালালেই চাকা পামচার হয়ে যায়। রাস্তা ভাঙাচোরা অবস্থায় দীর্ঘদিন পড়ে আছে। আমরা রাস্তাটি তাড়াতাড়ি চাই।’

রাস্তা নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপক প্রল্লাদ কুমার জাগো নিউজকে বলেন, বর্ষা মৌসুমের জন্য কাজ শুরু করা যায়নি। আশা করা যায় দ্রুতই কাজ শুরু করা যাবে।

অধিগ্রহণ জটিলতায় তিন বছর ধরে বন্ধ সড়কের কাজ, দুর্ভোগ চরমে

সওজ পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মনসুর আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, আট কিলোমিটার সড়কের মধ্যে চার কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে। বাকি চার কিলোমিটারের কাজ জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে। তবে জমি অধিগ্রহণের জন্য ১৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়ে তা পাবনা জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের কাজ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে হয়।

তিনি আরও বলেন, বরাদ্দ যেহেতু পাওয়া গেছে তাই শিগগির ওই টাকায় অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে। এরপরই সড়কের কাজ দ্রুতই শেষ করা যাবে ।

পাবনা জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, জমি অধিগ্রহণের জন্য ১৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। অধিগ্রহণের কাজ প্রক্রিয়াধীন। তা হলেই রাস্তাটির কাজ দ্রুত করা যাবে।

আমিন ইসলাম জুয়েল/এসজে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।