ফরিদপুরে খাদ্যগুদামে ২২৫ টন চালের হিসাব নেই, কর্মকর্তা লাপাত্তা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৯:১০ এএম, ২৫ নভেম্বর ২০২২

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা খাদ্যগুদামের ২২৫ টন চালের হিসাব মিলছে না। বিষয়টি জানাজানির পর থেকে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন লাপাত্তা।

বুধবার (২৩ নভেম্বর) বিকেলে ওই গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে। এ সময় ঢাকা বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মাহবুবুর রহমান, ফরিদপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক) মো. তারিকুজ্জামান, মাদারীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ইসমাইল হোসেন ও চরভদ্রাসন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল আলম উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) সানোয়ার হোসেন প্রায় ২২৫ টন চাল আত্মসাৎ করেন। ফলে চার মাস ধরে ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিডি কার্ডের এবং ডিলারদের ১৫ টাকা কার্ডের চাল সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে উপজেলার হত দরিদ্ররা চার মাস ধরে সরকারি খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন। চাল সরবরাহ বন্ধের অভিযোগ পেয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিনে তদন্তে আসেন। গুদামের নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে সরকারি চাল আত্মসাতের সত্যতা পান এবং ঘটনা জানাজানি হয়ে যায়।

এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ খান জাগো নিউজকে বলেন, আমার ইউনিয়নের প্রায় ৮০ টন চাল দেওয়ার কথা থাকলেও ওই ওসিএলএসডি চার মাস ধরে কোনো চাল সরবরাহ করেননি। উপজেলার চার ইউনিয়নের প্রায় ২২৫ টন ভিজিডি কার্ডের চাল তিনি আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় ওসিএলএসডির নামে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ডিলার জানান, উপজেলার সাত জন ডিলারের মধ্যে নির্দিষ্ট এক ডিলারের সঙ্গে আতাত করে ওসিএলএসডি প্রায় কোটি টাকার চাল আত্মসাৎ করেন। এখন তিনি লাপাত্তা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেনের মোবাইল নম্বরে বারবার ফোন দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়। তার খোঁজ করেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

চরভদ্রাসন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) রেজাউল আলম জাগো নিউজকে বলেন, খাদ্য গুদামটি সিলগালা করে রাখা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বরত) মো. তারিকুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, গুদামের নথিপত্র যাচাই করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। নথিপত্রে অনেক গরমিল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় মাদারীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ইসমাইল হোসেনকে আহ্বায়ক করে চরভদ্রাসন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল আলম ও ঢাকা বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মাহবুবুর রহমানের সমন্বয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা কবির ত্রপা জাগো নিউজকে বলেন, মৌখিকভাবে বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে গুদাম সিলগালার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো চিঠি আসেনি।

এন কে বি নয়ন/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।