জন্মের পর থেকে অসুস্থ স্নিগ্ধা, ঢাকায় নেওয়ার টাকা নেই পরিবারের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ১১:৪১ এএম, ২৫ নভেম্বর ২০২২
মা সাগরীকার কোলে শিশু স্নিগ্ধা

জান্নাতুল মাওয়া স্নিগ্ধা, বয়স মাত্র সাড়ে তিন মাস। জন্মের কয়েকদিন পর থেকে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। চিকিৎসকের কাছে গেলে জানান ফুসফুসে সমস্যার কথা। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য নিতে হবে ঢাকায়। বাবা হাবিব মন্ডলের নেই সে সামর্থ্য। ফলে সন্তানকে নিয়ে ১৫ দিন ধরে ঝিনাইদহ শিশু হাসপাতালে পড়ে আছেন তিনি।

হাবিব ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলার দুললোভপুর গ্রামের বাসিন্দা। নিজের জমি নেই। তাই অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ফসল ফলান তিনি। স্ত্রী সাগরীকা ও সাত বছরের এক ছেলে সন্তান নিয়ে ভালই চলছিল তাদের সংসার। তিন মাস আগে তাদের ঘরে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের কয়েকদিন পর তার শ্বাসকষ্ট সমস্যা দেখা দেয়।

হাবিব বলেন, ‘প্রথমে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে অক্সিজেন দিলে ঠিক হয়ে যায়। পরে বাড়িতে নিয়ে আসি। কিছুদিন পর আবার ঠান্ডা লাগে। শিশু হাসপাতালে আনলে বিভিন্ন পরীক্ষা করার পর ডাক্তার জানান মেয়ের ফুসফুসে সমস্যা আছে। জেলা শহরে এর চিকিৎসা সম্ভব নয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে বলেছেন। এতে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা খরচ হবে। কিন্তু ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসার করানোর মত কোনো সামর্থ্য আমার নেই।’

তিনি আরও বলেন, আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ধার করে সিজারিয়ানের মাধ্যমে স্নিগ্ধার জন্ম হয়। সেখানে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর এখন মেয়ের চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমার স্ত্রীর দিকেও তাকাতে পারছি না। কি করবো ঢাকায় নেওয়ার সামর্থ্য নেই তাই আল্লাহ যে কয়দিন মেয়েকে বাঁচিয়ে রাখে এ হাসপাতালেই থাকি।’

jagonews24

স্নিগ্ধার মা সাগরীকা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সন্তানকে নিয়ে ১৯ দিন হাসপাতালে পড়ে আছি। কিন্তু সুস্থ হচ্ছে না। ডাক্তার বলছে এখানে চিকিৎসা হবে না। ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। আমাদের তো ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নাই। মেয়েটা চোখের সামনে এভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে আর মা হয়ে কিছুই করতে পারছি না। সমাজের বিত্তবানরা যদি এগিয়ে এলে মেয়েটাকে বাঁচানো যেত।’

ঝিনাইদহ শিশু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, শিশু রোগী স্নিগ্ধা প্রচুর শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে আমাদের কাছে আসে। তার শ্বাসকষ্টটা খুবই বেশি ছিল। আমরা প্রথমে নিউমোনিয়ার ভেবেছিলাম। তাকে অক্সিজেন দেওয়া হলে কিছুটা স্বাভাবিক হয়। কিন্তু এর কয়েকদিন পর সে আবার জ্বরে আক্রান্ত হয়। কয়েকটি পরীক্ষা করে দেখতে পাই তার ফুসফুসের ওপরের অংশে সমস্যা হয়েছে। তার সেই সমস্যাটি আমাদের জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে সম্ভব নয়। এর পরীক্ষার ব্যবস্থাও নেই আমাদের।

তিনি আরও বলেন, তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তার পরিবার দরিদ্র হওয়ায় নিতে পারছেন না। আমাদের এখানেই চিকিৎসা করাচ্ছেন। হাসপাতাল থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করছি। উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারলে শিশুটি ধীরে ধীরে খারাপের দিকে চলে যাবে।

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।