নওগাঁয় মাদকসেবীর মারধরে হাসপাতালে যুবক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ১০:০১ এএম, ২৭ নভেম্বর ২০২২

নওগাঁয় মাদবসেবীর মারধরে এক যুবক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শহরের তুলসী গঙ্গা ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত আরিফুল ইসলাম রনক (৩০) শহরের চকরামপুর মহল্লার ফারুক হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চকরামপুর মহল্লার শামসুল মোল্লার ছেলে সবুজ হোসেন তুলসী গঙ্গা ব্রিজ এলাকায় স্থানীয় লোকজনকে কোনো কারণ ছাড়াই গালিগালাজ করছিলেন। এসময় আরিফুল ইসলাম রনক তাকে শান্ত করতে যান। কিন্তু উল্টো তাকেও গালিগালাজ শুরু করেন সবুজ। তখন রনক তার মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে লাগলে তার ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন। এতে ঠোঁট কেটে যাওয়াসহ আঘাতপ্রাপ্ত হন রনক।

স্থানীয় বাচ্চু মণ্ডল বলেন, অভিযুক্ত সবুজ নিয়মিত মাদক সেবন করেন। ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। রনক মাদকসেবী সবুজকে অনুরোধ করেন যাতে কাউকে গালিগালাজ না করেন। তখন তার কথা না শুনে ফের স্থানীয়দের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এসময় রনক তার মোবাইল ফোনে ভিডিওধারণ করতে লাগেন। তখন সবুজ উত্তেজিত হয়ে রনককে মারধর করতে লাগলে আমরা তাকে উদ্ধার করি। পুলিশ আসার পরও সবুজ কিছুক্ষণ সেখানে উপস্থিত ছিল।

আহত আরিফুল ইসলাম রনক বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই স্থানীয় লোকজনকে গালিগালাজ করছিলেন সবুজ। তাকে অনুরোধ করতে গেলে উল্টো আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এসময় মুঠোফোনে ভিডিওধারণ করতে লাগলে উত্তেজিত হয়ে আমাকে মারধর করেন। এতে আমার হাত, মুখ ও শরীরে মারাত্মকভাবে আঘাত পাই। পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে।

তিনি আরও বলেন, এরপর থানায় খবর দিলে এসআই মো. ফজলুল করিমসহ পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে আসলে মাদকসেবী সবুজ তখনও উপস্থিত ছিলেন। তবে পুলিশ তাকে আটক করেনি। পুলিশ আসার কিছুক্ষণ পর তিনি চলে যান। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এ বিষয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফজলুল করিম বলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর আরিফুল ইসলাম রনক আমাকে বার বার বলছেন তাকে (সবুজ) আটক করতে। কিন্তু কাকে আটক করবো, সেখানে তো অভিযুক্তকে পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলের বিষয়টি ওসিকে জানানো হয়। পরে সেখান থেকে চলে আসি।

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়সাল বিন আহসান মাহিন বলেন, ঘটনাটি জানার পর আমি সেখানে পুলিশের একটি টিমকে পাঠাই। তবে পুলিশ যাওয়ার পর সেখানে কোনো মাদসেবীকে পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত গা-ঢাকা দেওয়ায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আব্বাস আলী/এমআরআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।