ঝিনাইদহে ১১ মাসে ২৬ কোটি টাকার সোনার বার উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ১১:২৯ এএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২

সম্প্রতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভারতীয় সীমান্ত এলাকার সোনা চোরাকারবারিরা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত এলাকা থেকে ৩০৪টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে। যার ওজন ৩৮ কেজি ৪০ গ্রাম এবং বাজার মূল্য ২৬ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা। এসব ঘটনায় হওয়া ১২টি মামলায় আট চোরাকারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

যদিও সীমান্ত এলাকার স্থানীয়রা বলছেন, বিজিবির হাতে যা ধরা পড়ছে তার পরিমাণ খুবই কম। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক এ চোরাকারবারি চক্রের সদস্যরা বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশ থেকে কোটি কোটি টাকার সোনা প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাচার করছে।

২৯ নভেম্বর পৃথক দুই অভিযানে ৯১ পিস সোনার বার উদ্ধারের পর রাতে সংবাদ সম্মেলন করে মহেশপুর ৫৮-বিজিবি। খালিশপুর ৫৮ ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহীন আজাদ বলেন, চোরাকারবারিরা ভারতে সোনা পাচারের চেষ্টা করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির টহল দল অভিযান চালায়। সেসময় সীমান্তের একটি কলাবাগানের মধ্যে মাটি চাপা অবস্থায় ৮৫ পিস সোনার বার জব্দ করে। একই সময় চুয়াডাঙ্গা জেলার নীমতলা বিওপির আকন্দবাড়িয়া থেকে সন্দেহজনক অবস্থায় আব্দুস শুকুর নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে তার পায়ের জুতার নিচ থেকে ছয় পিস সোনার বার জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা সোনার দাম আট কোটি ৫৫ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকা।

এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ মহেশপুর সীমান্ত থেকে ৪০টি সোনার বারসহ মো. শওকত আলী (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮-বিজিবি)। যার মূল্য তিন কোটি ৩২ লাখ টাকা। ২৬ সেপ্টেম্বর চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর গয়েশপুর গ্রাম থেকে তাজুল ইসলাম নামে এক চোরাকারবারিকে চারটি সোনার বারসহ আটক করে বিজিবি।

২২ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকা থেকে ২৫ ভরি সোনাসহ মুক্তা খাতুন (৩৪) নামের এক নারীকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এদিন দুপুরে ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের লক্ষ্মীপুর এলাকার মাওলানাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

ঝিনাইদহে ১১ মাসে ২৬ কোটি টাকার সোনার বার উদ্ধার

১ এপ্রিল ভোরে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার জুলুলী গ্রামের করিমপুর মোড় থেকে ৯৯টি সোনার বারসহ ইব্রাহীম খলিল (২৫) নামে এক চোরাকারবারিকে আটক করে ৫৮-বিজিবি। উদ্ধার করা সোনার মূল্য আট কোটি টাকা।

এছাড়া ১৭ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মাঠ থেকে ১০টি সোনার বার উদ্ধার করেছে ৫৮ বিজিবি। উদ্ধার করা সোনার ওজন এক কেজি ১৬৫.৩২ গ্রাম। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৭৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার প্রায় ৫৭ কিলোমিটার ভারতীয় বর্ডার রয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ১১ কিলোমিটার রয়েছে কাটাতারবিহীন। ওই এলাকাজুড়ে রয়েছে কোদলা নদী। ঝিনাইদহ সীমান্তে মাটিলা, লেবুতলা, মোকদ্দাসপুর, সামান্তা, বাদ্দেরআটি, কচুরপোতা, বাঘাডঙ্গা, খোসালপুর, মাসলিয়া, আন্দুলিয়া, বন্নিশাহাপুর, শ্রীনাথপুর, জলুলী ও যাদবপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে মূলত রাতের অন্ধকারে এসব সোনা ও মাদকদ্রব্য এবার-ওপার হয়ে থাকে।

২০১৮ সালে মাদক বিরোধী অভিযানে ঝিনাইদহে পুলিশ ও র্যাবের ক্রস ফায়ারে নিহত হন সাত মাদক কারবারির। এরপরই এ জেলার মাদক কারবারিরা গা ঢাকা দেন। অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্রে বসবাস শুরু করে। সম্প্রতি আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে এসব চোরাকারবারিরা।

এ ব্যাপারে খালিশপুর ৫৮ ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহীন আজাদ বলেন, বিজিবি সব সময়ই সীমান্তে অবৈধ যাতায়াত ও চোরাচালান রোধে সক্রিয় এবং কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নিজস্ব গোয়েন্দাদের মাধ্যমে তথ্য নিয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে চোরাকারবারিদের তৎপরতা কমে এসেছে। এছাড়া আটক স্বর্ণ ও চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা সোনা রাজস্ব তহবিলে জমা করা হয়েছে।

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ/জেএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।