নাব্য সংকটে বেকার বাঘাবাড়ি বন্দরের ৫ শতাধিক শ্রমিক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০১:০৪ পিএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২

নাব্য সংকটে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দরে ভিড়তে পারছে না পণ্যবাহী জাহাজ। ফলে কাজ না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছে বন্দরের পাঁচ শতাধিক শ্রমিক।

জানা যায়, চট্টগ্রাম, খুলনা ও মোংলাসহ দেশের বিভিন্ন নৌ বন্দর থেকে সার, কয়লা, সিমেন্ট ও তেলসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে জাহাজ প্রতিদিনই এ বন্দরে আসে। তবে শুষ্ক মৌসুমের শুরু থেকেই নদীতে পানি কমতে থাকায় বড় জাহাজ চলাচল কমতে থাকে। গত বড় জাহাজ চলাচলে ১০-১৫ ফুট পানির গভীরতা প্রয়োজন হলেও এখন পানি আছে ৫-৮ ফুট। তাই দুই সপ্তাহ ধরে বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দরে ভিড়তে পারছে না বড় জাহাজ।

বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আব্দুল ওয়াহাব মিয়া জাগো নিউজকে জানান, নদীর পানি কমে যাওয়ায় অনেক ডুবচর জেগে উঠেছে। ফলে পূর্ণলোডে পণ্যবাহী জাহাজ বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে আসতে পারছে না। এতে বন্দরের প্রায় ৫ শতাধিক শ্রমিক দুই সপ্তাহ ধরে বেকার হয়ে পড়েছে। এ সমস্যা সমাধানে নদী ড্রেজিং করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

jagonews24

নৌবন্দর শ্রমিক প্রতিনিধি আবুল সরকার বলেন, দৌলদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় জাহাজআটকে যাওয়ায় লাইটারেজ জাহাজ ও কার্গোতে করে পণ্য বন্দরে আনতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ী ও ঘাট ইজারাদারদের। আর বন্দরে বড় জাহাজ ভিড়তে না পারায় বেকার হয়ে পড়ছে শ্রমিকরা। উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার সার, চাল, গমসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে আসা হয় এই বন্দর দিয়ে। এছাড়া পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নামের তিনটি জ্বালানি তেলের ডিপোও রয়েছে এই বন্দরে।

বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের শ্রমিক আলমগীর হোসেন, ওমর ফারুক ও জাহাঙ্গীর হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, গত ৪০ বছরেও এ নৌবন্দর জাহাজ শূন্য হয়নি। কিন্তু দুই সপ্তাহ ধরে ডুবচর ও নাব্য সংকটের কারণে জাহাজ আসতে না পারায় প্রায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। ফলে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।

বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের বাফার গুদামের কর্মকর্তা হারুন আর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার ১৪ বাফার গুদামে ইরি-বোরো আবাদের জন্য আপদকালীন সার মজুদ রয়েছে। ফলে এ সমস্যায় সার সংকটের কোনো সম্ভাবনা নেই।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপ-পরিচালক আসাদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, বাঘাবাড়ি দ্বিতীয় শ্রেণির নৌবন্দর। বন্দরটিকে প্রথম শ্রেণিতে রূপান্তরের চেষ্টা চলছে। এটি হলেই এ সমস্যা আর থাকবে না।

এএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।