রিকশা চালিয়ে জিপিএ-৫ পাওয়া মিঠনের স্বপ্ন পূরণে বাধা অর্থ

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি ঈশ্বরদী (পাবনা)
প্রকাশিত: ০৩:৫৪ পিএম, ২০ ডিসেম্বর ২০২২

রিকশা চালিয়ে সংসার ও পড়াশুনার খরচ চালানো মো. মিঠন এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। ছেলের ভালো ফলাফলে বেশ আনন্দিত বাবা-মা। কিন্তু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কিত মিঠন। তার স্বপ্নপূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্থিক দৈন্যতা।

অসুস্থ বাবা-মার একমাত্র সন্তান মিঠনকে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় সংসারের বোঝা কাঁধে নিয়ে রিকশার হ্যান্ডেল ধরতে হয়েছিল। রিকশার চাকা ঘুরিয়ে সংসার সচল রাখার পাশাপাশি নিজের স্বপ্ন পূরণেও সে ছিল দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তাইতো একবেলা স্কুল, আরেক বেলায় রিকশায় যাত্রী বহন করেও সংসারের খরচ জোগানো এবং পড়াশোনা চালিয়ে যায় মিঠন।

পাবনার ঈশ্বরদী পৌর শহরের মশুরিয়া পাড়া তালতলা এলাকার রিকশাচালক মো. আব্দুল মতিনের একমাত্র সন্তান মিঠন। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল সে প্রকৌশলী হবে। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর তার স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশা আরও বেড়ে গেছে। কিন্তু আর্থিক দৈন্যতার কারণে মিঠনের স্বপ্ন পূরণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে মিঠন সরকারি যেকোনো পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে ভর্তি হতে চায়। তবে সেখানে ভর্তি ও পড়াশোনার জন্য যে আর্থিক যোগানের প্রয়োজন তা বহন করা কষ্টকর হয়ে পড়বে মিঠনের জন্য। পলিটেকনিকে পড়ার পাশাপাশি সংসার ও পড়াশোনার খরচ চালাতে একটি খণ্ডকালীন চাকরি করতে চায় সে। এ স্বপ্নপূরণের জন্য সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তশালীদের সহযোগিতা কামনা করেছে এই মেধাবী শিক্ষার্থী।

নিজের সংগ্রামের গল্প জানাতে গিয়ে মিঠন বললো, ঈশ্বরদী টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট থেকে ২০২২ এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছি। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে সংসারের দায়িত্ব আমার কাঁধে এসে পড়ে। শুরু করি রিকশা চালানো। পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে পড়াশোনার জন্য ভর্তি হই ঈশ্বরদী টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটে। একবেলা স্কুলে যেতাম, আরেক বেলা রিকশা চালাতাম। যখন স্কুল বন্ধ থাকতো তখন পুরো দিন রিকশা চালাতাম। এভাবেই সংসার ও পড়াশোনা চালিয়েছি। আমি ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হতে চাই। কিন্তু সংসার চালানোর পাশাপাশি পড়াশোনা করতে গিয়ে আমাকে আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি যদি আমার পড়ার খরচ অথবা একটি পার্ট টাইম চাকরির ব্যবস্থা করে দিতেন তাহলে আমার প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হতো।

মিঠনের বাবা আব্দুল মতিন জাগো নিউজকে বলেন, আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ, কোনো রোজগার করতে পারি না। আমার ছেলে রিকশা চালিয়ে সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি পড়াশোনা করে। এবার সে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেছে। তার আশা সে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বে। আমার তো তাকে পড়াশোনা করানোর সামর্থ্য নেই। বিত্তবানরা যদি সহযোগিতা করতো তাহলে আমার ছেলের স্বপ্ন পূরণ হতো।

ইশ্বরদী টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের শিক্ষক বজলুর রহমান বলেন, মিঠনের পরীক্ষার ফলাফলে আমরা শিক্ষকরা আনন্দিত ও গর্বিত। সে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি পড়াশোনা করছে। আমরা তার পড়াশোনার প্রতি নজর রেখেছিলাম। সে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ছেলেটার স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতার জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

ঈশ্বরদী টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের সুপারিনটেনডেন্ট রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, মিঠন খুবই পরিশ্রমী। রিকশা চালিয়ে সংসার ও পড়াশোনার খরচ যুগিয়েছে। তার পরীক্ষার ফলাফলে আমরা গর্বিত। আশা করি, তার স্বপ্ন পূরণে হৃদয়বান বিত্তশালীরা এগিয়ে আসবেন।

শেখ মহসীন/এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।