কক্সবাজারে ব্যাডমিন্টন খেলার জেরে জোড়া খুন, গ্রেফতার ২

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০১:২১ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২৩
নিহত কায়সার হামিদ ও শহিদুল ইসলাম সাইদুল

কক্সবাজার শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে দুই যুবককে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) ভোরে কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে সোমবার (১৬ জানুয়ারি) দিনগত রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের পূর্ব লারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় ব্যাডমিন্টন খেলায় কিশোরকে মারধরের ঘটনায় দুইভাইকে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন, ঝিলংজা ইউনিয়নের পূর্ব লারপাড়ার আবদু খলিলের ছেলে জয়নাল আবেদীন (২৮) ও কামাল উদ্দিন (২৫)। তাদের কাছ থেকে খুনে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার (চাকু) এবং লোহার রড উদ্ধার করে পুলিশ।

তাদের হাতে সোমবার রাতে নিহতরা হলেন, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা পূর্ব লারপাড়া এলাকার আবদুল হামিদ মনু ড্রাইভারের ছেলে কায়সার হামিদ (২৮) ও নুরুল হুদা জুনু ড্রাইভারের ছেলে শহিদুল ইসলাম ওরফে সাইদুল (৩০)। নিহতরা সম্পর্কে চাচাত ভাই।

এসময় মুফিজ উদ্দিন (২১) নামে একজন আহত হন। তিনি একই এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে। তাকে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঝিলংজা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের মাঠে ব্যাডমিন্টন খেলার আয়োজন করে এলাকার কিশোররা। অন্যদিনের মতো সোমবার রাতেও সেখানে খেলছিল একদল কিশোর। সেসময় কায়সার ও সাইদুল গিয়ে কিশোরদের র্যাকেট ব্যাট নিয়ে খেলতে চান। তখন ওই এলাকার এক কিশোর তাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করলে কায়সার ও সাইদুল তাকে মারধর করেন।

এদিকে, মার খাওয়ার পর ওই কিশোর বাড়ি গিয়ে বিষয়টি জানালে তার বড় ভাই জয়নাল, কামাল ও চাচাত ভাই মিজানসহ অন্যরা ধারালো দা, ছুরি নিয়ে বের হন। পথে কায়সার ও সাইদুলকে পেয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে দুইজনকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান তারা। টের পেয়ে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুজনেরই মৃত্যু হয়

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম রাতেই কক্সবাজার সদর হাসপাতালে যায়। অপর কয়েকটি টিম যায় ঘটনাস্থল বাস টার্মিনাল এলাকার পূর্ব লারপাড়ায়। তৎক্ষণাতই খুনিদের ধরতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। কিন্তু গা-ঢাকা দেওয়ায় তাদের কাউকে তখন পাওয়া যায়নি। পরে গোয়েন্দা ও সোর্স লাগিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ভোরেই খুরুশকুল এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

ওসি আরও বলেন, এর পরেই তাদের নিয়ে এলাকায় যায় পুলিশ দল। তাদের দেখানো মতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের পর জব্দ করা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আশিকুর রহমান বলেন, সোমবার রাত পৌনে ১২ টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত কারণে দুজনের মৃত্যু হয়। অপরজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত নয়। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

সায়ীদ আলমগীর/এমআরআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।