নওগাঁ

এখনো বই পায়নি ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা, মাল্টিমিডিয়ায় চলছে ক্লাস

আব্বাস আলী
আব্বাস আলী আব্বাস আলী , জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৭:০০ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২৩
মাল্টিমিডিয়ায় নেওয়া হচ্ছে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস

নতুন বছরের ২৩ দিন পেরিয়ে গেলেও নওগাঁয় নতুন বই পায়নি ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। অন্য শ্রেণির বইও আংশিক বিতরণ হয়েছে। পাঠ্যবই না পাওয়ায় খেলাধুলা করেই স্কুল থেকে ফিরে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

তবে কিছু কিছু স্কুলে শিক্ষকদের ব্যতিক্রম উদ্যোগে ইন্টারনেট থেকে বইয়ের কনটেন্ট সংগ্রহ করে মাল্টিমিডিয়ায় ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। বই না পেলেও শিক্ষার্থীরা মাল্টিমিডিয়ায় ক্লাসের পড়াগুলো খাতায় লিপিবদ্ধ করে রাখছে। পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞান দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদরাসার মোট ২ হাজার ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই বিতরণ করা হয়। এরমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ১ হাজার ৩৭৫টি। যেখানে চাহিদা আছে ১২ লাখ ৫২ হাজার ৮০৬টি বই। এরমধ্যে ৯ লাখ ২৬ হাজার ৩৬৫টি বই বিতরণ হয়েছে।

আরও পড়ুন: বই ছাড়াই চলছে ক্লাস, এখনো ছাপা বাকি ২ কোটির বেশি

অন্যদিকে ৬৪৪টি মাধ্যমিক স্কুল ও মাদরাসা আছে। যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৫৫। বইয়ের চাহিদা আছে ৩৬ লাখ। কিন্তু বিতরণ হয়েছে ১৬ লাখ ৪ হাজার ৫০৩টি বই। অন্য শ্রেণিতে আংশিক দেওয়া হলেও এখনো কোনো বই পায়নি ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। ফলে অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

জিলা স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র রিসাত ইসলাম জানায়, ‘চারটি বই দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো এখনো পাইনি। ক্লাসে গ্রুপ করে পাঠদান করাচ্ছে। তবে বই না থাকায় একটু সমস্যা হচ্ছে।’

নওগাঁ জিলা স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আফজাল হোসেন বলেন, ‘তার ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। এখনো কোনো বই দেওয়া হয়নি। স্কুলে আসে আর যায়। খেলাধুলা করে সময় কাটায়। পড়তে বসতে বলা হলেও পড়ছে না। তবে শিক্ষকরা ইংরেজি ও বাংলা ব্যাকরণ ক্লাস করাচ্ছেন।’

nao-(2).jpg

আরেক অভিভাবক শিপন বলেন, ‘ছেলে রাফি বেসরকারি একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। এখনো কোনো বই পায়নি। স্কুলে যেতে চায় না। জোর করে পাঠাতে হচ্ছে। বই না পাওয়ায় পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে পড়ছে। পরে তো চাপ পড়বে। শুনলাম ফেব্রুয়ারিতে বই পাবে।’

আরও পড়ুন: ভাঙারি দোকানে নতুন বই বিক্রি, প্রধান শিক্ষক কারাগারে

সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী আজুরা ও তোহা জানায়, ‘নতুন বইয়ের গন্ধ এখনো পাইনি। কেমন বই সেটাও দেখা হয়নি। খারাপ লাগছে। স্কুলে গিয়ে খেলাধুলা করে বাসায় ফিরে যাই।’

এদিকে বই না পাওয়ায় কোনো কোনো স্কুলে শিক্ষকদের ব্যতিক্রম উদ্যোগে মাল্টিমিডিয়ায় ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

শহরের জনকল্যাণ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া আক্তার জানায়, ‘স্যাররা মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ক্লাস করাচ্ছেন। সেসব খাতায় লিপিবদ্ধ করে বাড়িতে পড়াশোনা করা হচ্ছে। বাড়তি কিছু সাধারণ জ্ঞান লাভ হচ্ছে।’

জনকল্যাণ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহাদেব কুমার সাহা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের এখানে ৫৫০ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে ১৩৪ জন ষষ্ঠ শ্রেণির। কিন্তু বই পাওয়া যায়নি। অন্য শ্রেণির ৫০ শতাংশ বই পাওয়া গেছে। বই না থাকায় ইন্টারনেট থেকে বইয়ের কনটেন্ট সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হচ্ছে। এছাড়া সাধারণ জ্ঞানের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। কারণ স্কুলে কোনো ক্লাস না নিলে পরদিন শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ হারাবে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন: ঠিক সময়ে এইচএসসির বই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা

নওগাঁ সেন্ট্রাল গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. মহাতাফ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্কুলের মোট শিক্ষার্থী ৬২০ জন। এরমধ্যে ১৬০ জন ষষ্ঠ শ্রেণির। অনলাইন থেকে সংশ্লিষ্ট শ্রেণির কনটেন্ট ডাউনলোড করে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। তবে বই ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে পাওয়া যাবে।’

নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আপাতত কোনো শ্রেণির ক্লাস হচ্ছে না। নাচ-গান সাংস্কৃতিক ও মিলাদের মধ্য দিয়ে সময় পার হচ্ছে। তবে শিগগিরই বই পাওয়া যাবে।’

নওগাঁ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, জেলার কয়েকটি উপজেলায় বই চলে গেছে। বই স্বল্পতায় কয়েকটি উপজেলায় এখনো যায়নি। কিছু সিলেবাসের পরিবর্তন হয়েছে এবং নতুন কারিকুলাম আসছে। এছাড়া কাগজের দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছু ছাপাখানার মালিক বই ছাপাতে দেরি করেছে। তবে চলতি (জানুয়ারি) মাসের মধ্যে সব বই পাওয়া যাবে।’

এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।