কক্সবাজারে বার্মিজ মার্কেট দখলের চেষ্টা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৭:৩৭ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২৩

কক্সবাজারে ভাড়াটে একদল দুর্বৃত্ত নারীকে দিয়ে একটি বার্মিজ মার্কেট দখলের চেষ্টায় উত্তেজনা চলছে। এরইমধ্যে একাধিকবার হামলার পর সশস্ত্র মহড়া চলায় আতঙ্ক বিরাজ করছে পর্যটন জোনে। হামলা ও সংঘর্ষের ভয়ে গেলো কয়েক মাস ধরে মার্কেটটি খুলতে না পেরে ব্যবসায়ীদের অর্ধশত কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কেট মালিকরা। কক্সবাজার পৌরসভার পর্যটন জোন কলাতলীর টিএম বার্মিজ মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

মার্কেট মালিকদের অভিযোগ, পৌরসভার দক্ষিণ বাহারছড়া এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু, সরকারি খাস জমি দখলবাজ আব্দুল্লাহ এবং সৈয়দ মোহাম্মদ মুসা অর্ধশতাধিক ভাড়াটে নারীদের ব্যবহার করে তাদের নির্মিত মার্কেটটি দখল করতে চান। থানা পুলিশের তৎপরতায় মার্কেটটি রক্ষা করতে পারলেও ভূমিদস্যুদের অব্যাহত হুমকিতে ব্যবসায়ী ও মার্কেট মালিকরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করেন তারা।

মার্কেট মালিক আব্দুর ছবুর জানান, বিএস ১৭৫১ খতিয়ানে ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমিতে অনেক বছর ধরে মার্কেট নির্মাণ করে ব্যবসা করছেন তারা। সম্প্রতি এটিকে পর্যটনশিল্পবান্ধব করতে সংস্কার করে ‘টিএম বার্মিজ মার্কেট’ হিসেবে গঠন করা হয়। এ সময়ই মার্কেটটি দখলে নিতে কয়েক দফা হামলার চেষ্টা চালান আব্দুল্লাহ ও মুসা গং।

মার্কেট মালিকদের দেওয়া তথ্যমতে, ভূমিদস্যুদের পক্ষে আব্দুল করিম স্বত্ত্ব দাবি করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি এমআর মামলা দায়ের করেন (নং-১৭৮৩/২২)। মামলাটি সরজমিন তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেন সহকারী কমিশনারের পক্ষে তহসিলদার। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিজ্ঞ আদালত মামলাটি খরিজ করে দেন।

jagonews24

হোসনে আরা নামে আরেক মার্কেট মালিক জানান, ভূমিদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেতে আমরা একটি এমআর মামলা দায়ের করি (নং-১৮৫৫/২২)। মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন পেয়ে ভূমিদস্যু মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও সৈয়দ মোহাম্মদ মুসা গংদের বিরুদ্ধে বারিত আদেশ প্রদান করেন আদালত। মার্কেটে ব্যবসায়ীরা যেন নিরাপদে ব্যবসা করতে পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কক্সবাজার মডেল থানা পুলিশের ওসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয় আদেশে। কিন্তু আইনি লড়াইয়ে চূড়ান্তভাবে হেরে যাওয়ার পর আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে ভূমিদস্যু আব্দুল্লাহ গং মার্কেট দখলের জোরচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দুর্বৃত্তদের অব্যাহত হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দাবি করে সোমবার (২৩ জানুয়রি) ভুক্তভোগীরা এক সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

ব্যবসায়ী জেবর মল্লুক বলেন, মার্কেট খুলতে না পেরে আমাদের অর্ধশত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। নষ্ট হয়েছে অনেক পণ্যও। আমরা আশা করছি থানা প্রশাসন আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করবেন।

এ ঘটনায় বক্তব্য নিতে অভিযুক্ত আবদুল্লাহ ও মুসার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা হাতে পেয়েছি। ইতোমধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালানো বেশ কয়েকজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এখনো সমস্যা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ পাচ্ছি। পর্যটন মৌসুমে শহরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হতে দেওয়া হবে না। সেখানে পুলিশের দৃষ্টি রয়েছে।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।