যশোরে বিএনপির পদযাত্রায় পুলিশের লাঠিপেটা, আহত ১৫
যশোরে বিএনপির ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রায় পুলিশ বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ও ফতেপুর ইউনিয়নের পদযাত্রা থেকে দুই কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীরা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে জড়ো হন। কিছুক্ষণের মধ্যে বিএনপির প্রয়াত কেন্দ্রীয় নেতা তরিকুল ইসলামের স্ত্রী যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নার্গিস বেগম সেখানে পৌঁছান। ১০ দফা দাবিতে বাহাদুরপুর থেকে বিএনপির পদযাত্রা শুরু হয়। শহরের খাজুরা বাস্ট্যান্ডের দিকে পদযাত্রা অগ্রসর হয়। নওয়াপাড়া মেহগনি মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় পুলিশ ব্যানার কেড়ে নেয়।

ব্যানার বাদেই পদযাত্রা চলতে থাকে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সামনে পৌঁছালে পুলিশ লাঠিচার্জ করে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় নেতাকর্মীরাও পাল্টা ইটপাটকেল ছোড়েন। সেখান থেকে এক কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
পদযাত্রাটি শহরের শেখহাটি হাইকোর্ট মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত পথসভার মধ্যদিয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশি বাধার মুখে পণ্ড হয়ে যায়।
তাৎক্ষণিকভাবে জানতে চাইলে যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নার্গিস বেগম বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ পদযাত্রাও সরকার সহ্য করতে পারছে না। আমরা পদযাত্রা থেকে স্লোগান পর্যন্ত দেইনি। শুধু ১০ দফা দাবি সম্বলিত প্রচারপত্র পথচারী ও দোকানে দোকানে বিলি করা হয়েছে। এতেই পুলিশ পিছন থেকে অতর্কিত আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করে পদযাত্রা পণ্ড করে দেয়। এসময় কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটকও করা হয়েছে।’

একই সময় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত তরিকুল ইসলামের ছেলে খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে ফতেপুর ইউনিয়নে পদযাত্রা শুরু হয়। পদযাত্রাটি যশোর-নড়াইল সড়কের দায়তলা এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ প্রথমে বাধা দেয়। বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এসময় নেতাকর্মীরা পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পদযাত্রা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে মাসুদুর রহমান নামের স্থানীয় এক যুবদলের নেতাকে পুলিশ আটক করে।
তবে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) জুয়েল ইমরান দাবি করেন, কোথাও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে জানতে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলামের মোবাইলে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।
মিলন রহমান/এসআর/এমএস