সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ

ছবি হাতে বাবার অপেক্ষায় চার সন্তান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৫:৪০ পিএম, ০৫ মার্চ ২০২৩

সাত বছরের শিশু ত্রাণফি তার বাবার ছবি হাতে নিয়ে অপেক্ষা করছে। কখন তার বাবা বাড়ি ফিরবে। মা ডেকে কোলে নেবে। বাবা মারা গেছেন বাড়ির লোকজন সেটা বোঝানোর চেষ্টা করলেও ত্রাণফি তা মানতে নারাজ। বার বার বলছে আজ রোববার, তার বাবা বাড়ি আসবে।

সঙ্গে অপেক্ষা করছে তার আরও তিন ভাই প্রীতম ঘাগ্রা (১৯), প্রতীক ঘাগ্রা (১৫) ও প্রতীম ঘাগ্রা (১২)। স্বামীর মরদেহের অপেক্ষায়  স্ত্রী কাজলী ঘাগ্রাও (৩৮)।

শনিবার (৪ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কদমরসুল ইউনিয়নের ছোটকুমিরা এলাকায় সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুন লাগে। ওই দুর্ঘটনায় নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের ছোট মনগড়া গ্রামের রতন নকরেক (৪৫) নিহত হন। তার বাবার নাম ক্ষিতিশ রংদী।

রোববার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে আত্মীয়স্বজন বসে আছেন। কেউ কাঁদছেন, কেউ সান্ত্বনা দিচ্ছেন। তখনও রতনের মরদেহ বাড়িতে এসে পৌঁছায়নি। স্বামী হারানোর শোকে স্ত্রী কাজলী ঘাগ্রার আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে।

নিহতের বোন প্রীতিলতা নকরেক বলেন, ২৫ বছর ধরে রতন ওই অক্সিজেন প্ল্যান্টে শ্রমিকের কাজ করছিলেন। গত সপ্তাহে তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। পাঁচদিন পর আবারও ওই অক্সিজেন প্ল্যান্টেই চাকরি নেন। এই চাকরিই যেন তার কাল হলো। রতন ছাড়া তার পরিবারে কেউ উপার্জন করেন না। তার মৃত্যুতে সন্তানদের লেখাপড়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেলো।

রতনের বড় ছেলে প্রীতম এবার এইচএসসি পাস করেছে, প্রতীক এসএসসি পরীক্ষার্থী ও প্রতীম সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একমাত্র মেয়ে ত্রাণফি দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে।

নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। দুর্ঘটনায় নিহত রতনের মরদেহ এখনও এলাকায় পৌঁছায়নি।

এফএ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।