গুপ্তধন ভেবে রকেট লঞ্চার ঘরে রেখে দিলেন কৃষক, থানায় নিলো পুলিশ
ফরিদপুরের সালথায় গুপ্তধন ভেবে পরিত্যক্ত রকেট লঞ্চার ঘরে রেখে দেন এক কৃষক। ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে ১৫ দিন পর পরিত্যক্ত রকেট লঞ্চারটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের আগুলদিয়া গ্রামের সিরাজ মাতুব্বরের বাড়ি থেকে এটি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল সকালে ওই গ্রামের সিরাজ মাতুব্বরের ছেলে সত্তার মাতুব্বরের বাড়ির উঠানে মাটি কাটতে গিয়ে মরিচা ধরা পরিত্যক্ত রকেট লঞ্চারটি পাওয়া যায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সত্তার মাতুব্বর (২৫) বাড়ির উঠানে মাটি কাটতে গেলে কোদালের সঙ্গে রকেট লঞ্চারটি উঠে আসে। পরে তিনি গুপ্তধন মনে করে কাউকে কিছু না জানিয়ে গোপনে বাড়িতে রেখে দেন। বিষয়টি জানতে পেরে গ্রামের জনৈক পারভেজ মোল্লা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে পুলিশকে জানান। খরব পেয়ে পুলিশ গিয়ে রকেট লঞ্চারটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে সত্তার মাতুব্বর বলেন, ‘১৫ দিন আগে বাড়ির উঠান থেকে রান্নাঘরের জন্য মাটি কাটার সময় ওই জিনিসটি পাই। পরে আমি জিনিসটি চিনতে না পেরে নিজের কাছে রেখে দেই। বিষয়টি কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করার পর তারা সেটি দেখে জানান এটি গুপ্তধন নয়, পরিত্যক্ত রকেট লঞ্চার। খবর পেয়ে পুলিশ এসে এটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে।’

স্থানীয় ফারুক মাতুব্বর বলেন, যে স্থান থেকে রকেট লঞ্চারটি উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে পাকিস্তান আমলের আগে থেকেই জঙ্গল ছিল। প্রায় ৫০ বছর আগে ওখানের জঙ্গল কেটে ফেলা হয়। পরে মাটি দিয়ে ভরাট করা হয় এবং বসতবাড়ি তোলা হয়।
সালথা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিচুর রহমান বলেন, এটি রকেট লঞ্চারের অংশবিশেষ। অনেক পুরোনো হওয়ায় মরিচা ধরে গেছে। এটির ওজন চার কেজি। প্রায় ১২ ইঞ্চি লম্বা। সামনের অংশ চওড়া ১০ ইঞ্চি। ২ ইঞ্চি কাঠের তৈরি ক্লিপে ইংরেজিতে লেখা 56 E6 #50 লেখা আছে। এটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাদিক জাগো নিউজকে বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে রকেট লঞ্চারটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি অনেক পুরোনো এবং ব্যবহারের অনুপযোগী।
এন কে বি নয়ন/এসআর/এমএস