প্রেমিকার ফেসবুক আইডি দিয়ে ডেকে নিয়ে তরুণকে হত্যা, গ্রেফতার ৬

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ০৭:১৬ পিএম, ০৭ মে ২০২৩

গাজীপুরে প্রেমিকাকে নিয়ে বিরোধের জেরে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন হয়েছেন এক তরুণ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কিশোর গ্যাংয়ের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতাররা হলেন মো. হাসিবুর রহমান টুটুল (২১), রিয়াদ হোসেন মুন্না (১৮), মো. শাকিল (১৯), মো. রাকিব (২২) ও অপর দুইজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রেজওয়ান আহমেদ জানান, গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে সদর থানার দক্ষিণ ছায়াবিথীর ফণিরটেক এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে সিয়াম (২০) নামে এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের হাত, পা, গলা, মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা এবং মুখমণ্ডলসহ সারা শরীরে কাটা রক্তাক্ত জখম ছিল। নিহত সিয়াম শহরের ছোট দেওড়া এলাকার মো. সফিকুল ইসলামের ছেলে।

তিনি আরও জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এ ঘটনায় জড়িত এক কিশোরকে (১৬) সদর থানার দক্ষিণ ছায়াবিথী এলাকা থেকে ২৯ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ওই কিশোর জানায় এক কিশোরীর সঙ্গে ঘটনার মূল পরিপকল্পানাকারী এবং হত্যায় সরাসরি অংশগ্রহণকারী পলাতক আসামি মো. আরাফাতের (২০) দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার পাঁচদিন আগে আত্মীয়ের বাড়িতে ঘুরতে গিয়ে নিহত সিয়ামের সঙ্গে ওই কিশোরীর পরিচয় হয়। তারা নিজেদের মধ্যে ফেসবুক আইডি বিনিময় করে এবং পরবর্তীকালে মেসেঞ্জারে চ্যাট চলতে থাকে।

অন্যদিকে, ওই কিশোরীর প্রেমিক আরাফাত প্রেমিকার ফেসবুক আইডি তার মোবাইলফোনে লগইন করে রাখেন। এতে করে প্রেমিকা মেসেঞ্জারে যাদের সঙ্গে চ্যাট করতো তার বিস্তারিত আরাফাত নিজের মোবাইলফোনে দেখতে পেতেন। এতে আরাফাতের ক্ষোভ ও আক্রোশ জমতে থাকে এবং সিয়ামকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ এপ্রিল রাতে নিহত সিয়ামকে কৌশলে ওই কিশোরীর ফেসবুক আইডি থেকে আরাফাত তার পরিচয় গোপন করে চ্যাট করেন এবং ঘটনাস্থলে এসে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। সদ্য পরিচয় এবং নিজের ভালোলাগা থেকে সিয়াম ঘটনাস্থলে আসেন। এসময় ১০-১৫ জনের একটি গ্রুপ আরাফাতের নির্দেশে সিয়ামের হাত-পা বেঁধে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়।

পরে পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে প্রথমে ওই কিশোরকে গত ২৯ এপ্রিল সদর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। সে আদালতে ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরবর্তীকালে আরেক কিশোর (১৫), হাসিবুর রহমান টুটুল, রিয়াদ হোসেন মুন্নাকে ৩০ এপ্রিল দক্ষিণ ছায়াবিথী এলাকা থেকে এবং শাকিল ও রাকিবকে শহরের বাঙ্গালগাছ এলাকা থেকে রোববার গ্রেফতার করা হয়।

অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রেজওয়ান আহমেদ বলেন, ঘটনাটি যাকে কেন্দ্র করে ঘটেছে সেই কিশোরী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

মো. আমিনুল ইসলাম/এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।