ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের গোলাপগঞ্জ
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সিলেটে বড় ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ৪ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প প্রায় ১৫ সেকেন্ড স্থায়ী হয়। এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেটের গোলাপগঞ্জে। যা সিলেট শহর থেকে মাত্র ২৩ কিলোমিটার দূরে।
শুক্রবার (১৬ জুন) সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। সিলেট ছাড়াও মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ থেকে ভূ-কম্পন অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছে। এর ভৌগলিক অবস্থান ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৯২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
জাগো নিউজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন।
তিনি বলেন, আজ সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল সিলেটের গোলাপগঞ্জ। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫।
এদিকে সকালে সিলেটে টানা বৃষ্টির মধ্যে এ ভূমিকম্প অনুভূত হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সিলেট নগরের দর্শনদেউরি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো. সায়েক মিয়া বলেন, ভূমিকম্পে আমাদের বহুতল ভবনটি কেঁপে ওঠে। বেশ কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। তবে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিলেট আবহাওয়া অফিস। এছাড়াও আগামী কয়েক দিনে সিলেট জেলায় ১৪শ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে সিলেটে বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্যার শংকার মাঝে শুক্রবার সকালের ভূমিকম্প সিলেটবাসীর মাঝে ভীতি জাগিয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ৪৬ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে যে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে আমেরিকান ভূ-তাত্ত্বিক অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে ভূমিকম্পটি ছিল ৫ মাত্রার ও এর উৎপত্তিস্থল সিলেট শহর থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে। ভূমিকম্পটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছে। ভূমিকম্পটির ভৌগলিক অবস্থান ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৯২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।’
তিনি আরও লেখেন, ‘সিলেট শহরের মানুষদের আগামী ২৪ ঘণ্টা সতর্ক থাকার অনুরোধ করবো। ৫ মাত্রার ভূমিকম্প অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টা ছোট-ছোট আরও ২-১টি ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যে ভূমিকম্পগুলো প্রথম ভূমিকম্পের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে সৃষ্টি হয়ে থাকে।’
তবে মোস্তফা কামাল পলাশের এমন মন্তব্যে দ্বিমত পোষণ করেছেন সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন।
সজিব বলেন, ‘পৃথিবীর কেউই যেখানে ভূমিকম্পের আগাম বার্তা দিতে পারেন না। সেখানে আমাদের দেশের কিছু উর্বর মস্তিষ্কের গবেষক ও আবহাওয়াবিদ আগাম বলছেন আরও ভূমিকম্প হবে। এটা বিষ্ময়কর।’
ছামির মাহমুদ/এফএ/জিকেএস