কক্সবাজারে পর্যটকদের ভিড়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৬:৪২ পিএম, ০২ জুলাই ২০২৩

এবারের পবিত্র ঈদুল আজহায় টানা পাঁচদিনের ছুটি পেয়েছেন সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা। এ ছুটির মধ্যে দুদিন পড়েছে কোরবানির আগে আর দুদিন ঈদের পরে। কোরবানির আগে দুদিনের ছুটি পশুর হাটে ঘোরাফেরায় গেছে সবার। ঈদের চতুর্থ দিনেও ঘোরাঘুরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভ্রমণপ্রেমীরা। তবে, আশানুরূপ পর্যটক না আশায় হোটেল-মোটেলের বেশিরভাগ রুম খালি পড়ে আছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, কক্সবাজার সৈকতের বেলাভূমি ও পর্যটনস্পটগুলোতে প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিপুল পর্যটকের সমাগম ঘটছে। স্থানীয়রা সমুদ্র সৈকত দেখার পরিবর্তে আশপাশের পর্যটনস্পটগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, ঈদগাঁওয়ের উপকূলীয় চৌফলদন্ডী-খুরুশকুল ব্রিজ, নবনির্মিত রেললাইন, নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি পর্যটনস্পট, রামুর জোয়ারিয়ানালা স্বপ্নতরী পার্ক, হিমছড়ি, পেঁচারদ্বীপ ও ইসলামপুরের খাঁন বিচ এলাকায় বিকেলে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। তাদের নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

কক্সবাজারের পর্যটনস্পটগুলোতে দর্শনার্থীর ভিড়

ঈদগাঁওয়ের মেহেরঘোনার ইউনুস খান ও আশেকা দম্পতি বলেন, ‘সৈকত সময়ে-অসময়ে কমবেশি দেখা হয়। কিন্তু পাহাড়ঘেরা কক্সবাজারের বিভিন্ন পর্যটনস্পট সেভাবে দেখা হয়নি। এবারের কোরবানি ঈদের পরদিন সপরিবারে সোনাইছড়ি পার্কে গিয়ে নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করেছি।’

কক্সবাজারের পর্যটনস্পটগুলোতে দর্শনার্থীর ভিড়

ঢাকার কলাবাগান থেকে এসেছেন শরিফুল ইসলাম জীবন। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার স্ত্রী সরকারি চাকরি করেন। আমরা একসঙ্গে ছুটি কোনোভাবে মিলাতে পারি না। এবার কোরবানির ঈদের ছুটিটা একসঙ্গে পেয়ে স্বপরিবারে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছি। পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব ভালো সময় কাটালাম এখানে।’

বরগুনা থেকে আসা পর্যটক শাহেদ আজিম বলেন, ঈদের ছুটিতে পাঁচ বন্ধু মিলে কক্সবাজারে এসেছি। কক্সবাজারের পরিবেশ এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো। খুব ভালো সময় পার করছি আমরা।

কক্সবাজারের পর্যটনস্পটগুলোতে দর্শনার্থীর ভিড়

সিলেটের শ্রীমঙ্গল থেকে আসা মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘সৈকতের বেলাভূমিতে ভালো সময় পার করেছি। সাগরে ঢেউয়ের তালে মিশে গোসল করার পর সব ক্লান্তি যেন দূর হয়ে যায়।’

সৈকত সংলগ্ন ঝিনুক মার্কেট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি কাসেম আলী বলেন, ঈদের ছুটিতে সৈকত তীরে পর্যটক-দর্শনার্থীর উপস্থিতি মোটামুটি ছিল। তবে, মার্কেটে তেমন বেচাবিক্রি ছিল না, এখনো নেই। আশা করছি সামনে হয়তো বিক্রি বাড়বে।

কক্সবাজারের পর্যটনস্পটগুলোতে দর্শনার্থীর ভিড়

তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস লিমিটেডের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে আশানুরূপ ব্যবসা হচ্ছে না। এবার টানা পাঁচদিন বন্ধ থাকায় হোটেল বুকিং পরিপূর্ণ হবে বলে আশা করছিলাম। কিন্তু সেই আগের নিয়মেই অতিথি ছিল আমাদের।’

কক্সবাজার আবাসিক হোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, পর্যটক কিছুটা এসেছে। ৪০-৪৫ শতাংশ বুকিং পেয়েছে আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

কক্সবাজারের পর্যটনস্পটগুলোতে দর্শনার্থীর ভিড়

তিনি জানান, কক্সবাজার পর্যটন জোনে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় চার শতাধিক আবাসিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে এক রাতে প্রায় সোয়া লাখ লোক রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে।

টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান বলেন, আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যটনস্পটগুলোতে পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা।

কক্সবাজারের পর্যটনস্পটগুলোতে দর্শনার্থীর ভিড়

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের যেকোনো ধরনের হয়রানি থেকে মুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের তিনটি টিম সমুদ্র সৈকত ও আশপাশের এলাকায় নিয়মমতো কাজ করছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, কোনো অঘটন ছাড়াই কোরবানি ঈদের ছুটি পার হয়েছে। এখনো সবখানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা বিদ্যমান।

সায়ীদ আলমগীর/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।