যশোরে আওয়ামী লীগ-বিএনপির পাল্টা কর্মসূচি
যশোরে বিএনপি-আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালিত হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
সরকারের পদত্যাগের এক দফার পূর্বঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (১৯ জুলাই) বেলা ১১টায় জেলা বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচির সময় নির্ধারিত ছিল। পদযাত্রায় অংশ নিতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা শহরের লালদীঘির বিএনপি কার্যালয় চত্বরে আসতে থাকেন।
এদিকে, একই সময়ে শান্তি সমাবেশের নামে পাল্টা কর্মসূচির ডাক দেয় যশোর জেলা আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরাও একই সময়ে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে মিছিল নিয়ে শহরে প্রবেশ করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। উভয় দলই প্রতিপক্ষকে দমাতে স্লোগান দিলে রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে পাল্টা এ কর্মসূচিতে শহরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়ে শহরবাসী।
যশোর বিএনপির আয়োজনে সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে পদযাত্রা দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে শহরের রবীন্দ্রনাথ সড়ক (আরএন রোড) প্রদক্ষিণ করে মনিহার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

পদযাত্রার আগে শহরের লালদীঘির দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলের খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর ধরে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে আন্দোলন করছি। সেই আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের ছয় শতাধিক নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন। পাঁচ হাজারের অধিক নেতাকর্মী সরকার দলীয় বাহিনী দ্বারা এমনকি সরকারের প্রকাশ্য মদদে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় খুনের শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, হাজার হাজার নেতাকর্মী পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তারপরও আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশ বিনির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে রাজপথে অবিচল রয়েছি। বিগত ১৫ বছর ধরে যে দাবি নিয়ে আমরা রাজপথে কথা বলছি, সেই দাবি নিছক বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, সেই দাবির সঙ্গে জনগণের ভাগ্য জড়িয়ে আছে।
এদিকে, একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ে শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রা এবং সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে যশোর জেলা আওয়ামী লীগ। শহরের বকুলতলার বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে গাড়িখানার দলীয় কার্যালয় চত্বরে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রার নেতৃত্বে দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন।
সমাবেশে তিনি বলেন, যথাসময়ে এবং সংবিধান অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে কেউ বাধা দিতে আসলে তার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। বিএনপি নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনকে বানচালের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই অপচেষ্টা প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি প্রসঙ্গে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মসূচি ঘিরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ তৎপর ছিল।
মিলন রহমান/এমআরআর