ধর্ষণ মামলা

ক্র্যাচে ভর দিয়ে আদালতে মামুনুল হক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:০৫ পিএম, ০৮ আগস্ট ২০২৩

ক্র্যাচে ভর দিয়ে আদালতে উঠলেন ধর্ষণ মামলার আসামি হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হক। মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) সকালে ১১ দফায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জ আদালতে আনা হয় মামুনুল হককে। কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে কাশিমপুর কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জের আদালতে আনা হয় তাকে।

আদালতে ওঠানোর সময় তিনিসহ তার অনুসারীরা নীরব থাকলেও নামানোর সময় সরব হয়ে ওঠেন। অনুসারীরা কোরআনের আয়াত পড়ে মামুনুল হকের মুক্তির দাবিতে স্লোগান ও মিছিল করেন। তাদের স্লোগান ও মিছিলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটেনি।

মঙ্গলবার মামুনুলের বিরুদ্ধে দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষ্যদাতারা হলেন রয়েল রিসোর্টের পাবলিক রিলেশন অফিসার জাকির হোসেন ও সাংবাদিক নুর নবী জনি।

এই মামলায় ৪০ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৪ জনের সাক্ষ্যগহণ করা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

আইনজীবীরা জানান, সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ক্র্যাচে ভর দিয়ে আদালতে নীরব ভঙ্গিতেই উঠেছিলেন মামুনুল হক। দুপুর সোয়া ১২টা থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ চলে।

jagonews24

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালতের নিচতলায় নামার সঙ্গে সঙ্গে মামুনুল হককে তার অনুসারীরা ঘিরে ধরেন। কেউ কেউ মামুনুল হককে উদ্দেশ্য করে সালাম দেন। এ সময় মামুনুল হক তাদের অনুসারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সত্যের জয় হবে’। আর এই কথার সঙ্গে সঙ্গে তার অনুসারীরা কোরআনের আয়াত পড়ে স্লোগান দেওয়া শুরু করেন। স্লোগানে স্লোগানে তারা মামুনুল হকের মুক্তি দাবি করেন। একইসঙ্গে মামুনুল হকের মুক্তি দাবি করে অনুসারীরা নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট একেএম ওমর ফারুক নয়ন বলেন, বিগত দিনে যাদের সমন ছিল তাদের মধ্যে থেকে দুজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সাক্ষীদের জেরা এবং জবানবন্দিতে বিশাল ব্যবধান রয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয় মামুনুল হক নির্দোষ। তার বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে সেটা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তার দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্ণাকে দিয়ে মামলা করা হয়েছে। তাদের মাঝে এখনও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক রয়েছে। ঝর্ণার ছেলে আব্দুর রহমান বলেছেন তাদের মধ্যে বৈধ বিবাহ সম্পর্ক ছিল। মামুনুল হক অসুস্থ, এজন্য তাকে ক্র্যাচে ভর দিয়ে হাঁটতে হয়।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রকিব উদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, আজ মামুনুল হকের বিরুদ্ধে দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষীরা সবাই বলেছেন মামুনুল ধর্ষণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। মামুনুল হক বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ঝর্ণাকে ধর্ষণ করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জ আদালতে আনা হয়েছিল মামুনুল হককে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে আবার কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর প্রথম দফায় মামুনুল হকের উপস্থিতিতে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণার সাক্ষ্য নেন আদালতে। একইসঙ্গে ওই বছরের ৩ নভেম্বর মামুনুল হকের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলায় বিচারকাজ শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।