আরব সাগরের ভয়ংকর বিষধর সাপ ‘ইয়েলো বেলিড’ কক্সবাজার সৈকতে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৩:২৫ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২৩

আরব সাগরের ভয়ংকর বিষধর সাপ ‘ইয়েলো বেলিড’ বা ‘হলদে পেটি’। সামুদ্রিক এ সাপটি এখন বিচরণ করছে কক্সবাজার সৈকতে। শুক্রবার (১১ আগস্ট) রাতে শহরের সমিতিপাড়া সৈকত পয়েন্টে দেখা মিলেছে এ প্রজাতির বিষধর সাপের।

এর আগে গত জুনে শহরের সুগন্ধা পয়েন্ট সৈকতে একটি ইয়েলো বেলিড সাপের দেখা পাওয়া যায়। সাম্প্রতিককালে কক্সবাজার সৈকতে এ ইয়েলো বেলিড সাপের বিচরণ বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

jagonews24

এ সাপ নিয়ে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিঘা সৈকতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দিঘা সৈকতটি বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলের ঠিক উল্টো দিকে অবস্থিত। ভারতে এ সাপের প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম না থাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: গড়াই নদে জালে উঠে এলো বিষধর চন্দ্রবোড়া

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের বিচ কর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের সমিতিপাড়া সৈকত পয়েন্টে দায়িত্ব পালনকালে তিনি একটি ইয়েলো বেলিড সাপের দেখা পান। পরে সাপটি সাগরের দিকে চলে যেতে দেখেন। এসময় তিনি সাপটির ভিডিও ফুটেজ ও কিছু ছবি তুলে রাখেন।

সূত্রের তথ্যমতে, ‘ইয়েলো বেলিড’ সাপ বিশ্বের আটটি ভয়ংকর সামুদ্রিক সাপের অন্যতম। এ সাপের দংশনে মৃত্যুর হার ৮০ শতাংশ।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সংক্রামক ব্যাধি ও ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহজাহান নাজির জানান, কক্সবাজারে এ সাপের আক্রমণে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া না গেলেও প্রায় ছয়মাস আগে দুবলার চর সৈকতে এক জেলের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুবলার চর সৈকতের ওই জেলে সাপটি মৃত ভেবে লাথি মেরেছিলেন। ফলে সাপটি ওই জেলেকে আক্রমণ করে।

ডা. শাহজাহান নাজির বলেন, বঙ্গোপসাগরে ও কক্সবাজার সৈকতে এ ইয়েলো বেলিড সাপের বিচরণ রয়েছে। এর কামড়ে শরীর প্যারালাইজড হয়ে যায়। কিডনি, হার্ট আক্রান্ত হয় এবং ধীরে ধীরে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। প্রস্রাবের রংও পাল্টে যেতে পারে। তাই এ সাপের ব্যাপারে জেলেসহ সংশ্লিষ্টদের সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হলদে পেটি সামুদ্রিক সাপ হলো বিশ্বে সবচেয়ে বেশি দেখা পাওয়া সামুদ্রিক সাপ। এটি অত্যন্ত বিষাক্ত প্রজাতির সাপ, যা হাইড্রোফিনি (সামুদ্রিক সাপ) সাবফ্যামিলির অন্তর্গত।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০ ফুটের অজগর উদ্ধার

হলদে পেটি সামুদ্রিক সাপের বৈজ্ঞানিক নাম পেলামিস প্লেটোরাস। একটি স্বতন্ত্র দ্বিবর্ণ প্যাটার্নের এ সাপটি আফ্রিকা, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, মেক্সিকো, বাজা ক্যালিফোর্নিয়া এবং মধ্য আমেরিকার উপকূলসহ ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এবং উপক্রান্তীয় জলে পাওয়া যায়।

একটি প্রাপ্তবয়স্ক ইয়েলো বেলিড সাপের গড় দৈর্ঘ্য ৩ ফুট। সাপটির একটি মসৃণ আঁশ এবং একটি মসৃণ আকৃতির শরীর রয়েছে। এর নিচের অংশ হলুদ এবং পিঠ নীলচে কালো। লেজ নৌকার দাড়ের মতো চ্যাপ্টা হলুদ পুচ্ছবিশিষ্ট, যাতে সাপটি সাগরে নির্বিঘ্নে সাঁতার কাটতে পারে। আইইউসিএন রেড লিস্টে সাপটির অবস্থান লিস্ট কনসার্ন বা ‘ন্যূনতম উদ্বেগ’ হিসেবে।

jagonews24

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া জানান, ইয়েলো বেলিড সাপ মাংসাশী এবং এরা শুধু মাছ খায়। এরা পানির নিচে একটানা তিন ঘণ্টা পর্যন্ত কাটাতে পারে। তার সমগ্র জীবনচক্র সমুদ্রেই কাটে।

‘এ প্রজাতির সাপ পানির ওপরে ডাইভিং ও সাঁতার কাটার সময় ত্বকের মাধ্যমে তার চাহিদার ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে। এটি একটি অত্যন্ত বিষাক্ত প্রজাতির সাপ। তাই এ সাপের ব্যাপারে সতর্কতা আবশ্যক’, বলেন এ অধ্যাপক।

সায়ীদ আলমগীর/এসআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।